আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত নয়: তথ্য উপদেষ্টা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনাও নাকচ করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে না।’
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি।
আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী’ দল উল্লেখ করে দলটির রাজনীতির সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন জুলাই আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে গতকাল হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দলটি পুনর্গঠন করে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না—এ নিয়ে যে ধরনের অনুমান করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে—এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই।
তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।’
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও তিনি পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম—তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন—এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করব ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাকে একটাবার (বাধা) দেবেন।’
শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থানকে ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারত, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।’
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা হলে তা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।

