EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টো হ্যাকিং

চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ পূরণ করার দাবি বাইনান্সের

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশ পূরণ করার দাবি বাইনান্সের

ছবি: বিবিসি

অ অ

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইনান্স দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক ভয়াবহ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়া ৬.৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের সম্পদের ৯০ শতাংশ তারা ইতিমধ্যেই নিজস্ব তহবিল থেকে পূরণ করেছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) এক হালনাগাদ তথ্যে বাইনান্স জানায়, হ্যাকিংয়ের পর সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর তাদের বেশ কয়েকটি নেটওয়ার্কে পুনরায় ক্রিপ্টো উত্তোলন সেবা চালু করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সম্পদ প্রয়োজনীয় পরিমাণে সংগ্রহ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় এই হ্যাকিংয়ের ঘটনায় শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে বাইনান্স শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। এর জন্য তারা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ৬.৩৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, ‘এই চুরি যাওয়া সম্পদের আর্থিক ক্ষতির পুরো দায় বাইনান্স নিজেই বহন করবে, আমাদের ব্যবহারকারীদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই শনিবার জানিয়েছে যে, এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়া জড়িত ছিল। এফবিআই আরও জানায়, তারা লক্ষ্য করেছে হ্যাকাররা চুরি করা সম্পদকে ‘ইথেরিয়াম’ নামক ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করছে।

পরবর্তীতে এই সম্পদগুলো বিকেন্দ্রীভূত অর্থায়ন এবং ইনস্ট্যান্ট সোয়াপ সার্ভিসের মাধ্যমে আবারও রূপান্তর করা হতে পারে।

এর আগে দুটি অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান বিবিসি-কে জানিয়েছিল যে, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যা নির্দেশ করে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকিং ইউনিট ‘লাজারাস গ্রুপ’— যা ‘ট্রেডারট্রেটর’ নামেও পরিচিত। 

বাইনান্স জানিয়েছে যে, তারা বিভিন্ন তহবিল এবং নিজস্ব কর্পোরেট ট্রেজারি ব্যবহার করে চুরি যাওয়া সম্পদ পুনরায় পূরণ করেছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এবং টেথারসহ আরও সাতটি বহুল লেনদেন হওয়া ক্রিপ্টো সম্পদের সব হোল্ডিং এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

এই হ্যাকিংটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে হওয়া ১.৫ বিলিয়ন ডলার চুরির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। সেই চুরির জন্যও এফবিআই উত্তর কোরিয়াকেই দায়ী করেছিল।

তবে উত্তর কোরিয়া সবসময়ই এসব হামলায় তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে এসেছে।

বাইনান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল যে, একজন ইঞ্জিনিয়ারের ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার কারণে এই অননুমোদিত উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া হ্যাকাররা সিস্টেমে প্রবেশের জন্য আরও কিছু দুর্বলতা ব্যবহার করেছিল।

বাইনান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেন, এই হ্যাকিংয়ের পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল এবং হ্যাকাররা তাদের অবস্থান ও প্রমাণ লুকাতে ‘সেলফ-ডিস্ট্রাক্ট মেকানিজম’ (স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ মুছে ফেলার প্রযুক্তি)-এর মতো অত্যন্ত জটিল ও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

শুক্রবার কোম্পানিটি জানায় যে, তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ও সহযোগীদের সাথে কাজ করে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চুরি যাওয়া সম্পদ ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা বাইনান্স থেকে চুরি হওয়া তহবিল শনাক্ত, অবরুদ্ধ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য বেসরকারি খাতের সহযোগীদের সাথে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইনান্স বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে ডিজিটাল সম্পদ কেনা, বেচা এবং লেনদেনের সুবিধা দিয়ে থাকে।

Recommended Stories


আরও পড়ুন