EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

ভাঙনের মুখে ৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তিখলা-মল্লিকপুর শাহী মসজিদ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা-মল্লিকপুর শাহী জামে মসজিদ তাজমহলের আদলে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি নান্দনিক স্থাপনা

ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

ভাঙনের মুখে ৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তিখলা-মল্লিকপুর শাহী মসজিদ

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

হাওর পাড়ে তাজ মহলের আদলে নির্মিত নান্দনিক কারুকার্যখচিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মুক্তিখলা-মল্লিকপুর শাহী জামে মসজিদটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তবে বয়সের ভার ও ভূমিকম্পের প্রভাবে মসজিদের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় এটি এখন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মসজিদটি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জনতা বাজার পলাশ সড়কের মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে অবস্থিত।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসজিদটির বয়স ৮০ বছরের বেশি। যদিও মসজিদের দেয়ালে ১৫-০৯-১৩৫৬ বাংলা সন নির্মাণকাল হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। নামাজ আদায়ের জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় খরচার হাওর পাড়ের মুক্তিখলা-মল্লিকপুর গ্রামে তাজমহলের আদলে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়ভাবে নির্মাণ করতে সে সময় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। মসজিদের অভ্যন্তরীণ গঠন অন্যান্য মসজিদের তুলনায় ভিন্নধর্মী।

সময়ের পরিক্রমায় মসজিদটি এখন জরাজীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের কারণে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় গম্বুজে লাগানো কিছু পাথর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবুও এ মসজিদেই নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন এলাকাবাসী।

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ও এলাকাবাসীরা জানান, মসজিদটির বয়স ৮০ বছরের বেশি। এটি পুরোনো হওয়ায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার যেভাবে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করছে, তেমনি এ মসজিদটিকেও সরকারের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার দাবি জানান তারা।


মসজিদ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা বলেন, মসজিদটি পুরোনো ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় এটি গ্রামের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে এটি মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের একমাত্র মসজিদ। এ মসজিদ না থাকলে উপজেলা সদর বা কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে। তাই দ্রুত মেরামত প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কাসেম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছেন। আগে মুসল্লি কম হলেও গত ৭-৮ বছর ধরে মুসল্লি সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু জায়গার সংকট রয়েছে। বৃষ্টি হলে মসজিদের ভেতরে পানি পড়ে এবং বর্ষা মৌসুমে হাওরের পানি বেড়ে গেলে মসজিদে পানি প্রবেশ করে। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি মেরামত ও সংরক্ষণ করা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হতেন।

আরও পড়ুন