EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবে কেপ ভার্দে?

সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশটি স্পেন-উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে; ৪ জুলাই মায়ামিতে মেসিদের মুখোমুখি

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবে কেপ ভার্দে?

ছবি: রয়টার্স

অ অ

মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া কঠিন। জনসংখ্যায় বাংলাদেশের একটি মাঝারি উপজেলার সমান। অর্থনীতিতে তলানিতে। তবু আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে জেগে থাকা ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র এখন গোটা ফুটবল দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে।

নাম তার কেপ ভার্দে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবার খেলতে নেমেই তারা করে ফেলেছে অসাধারণ এক কাণ্ড। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের একটিতেও জেতেনি। তবু উঠে গেছে নকআউট পর্বে। ফুটবলের রূপকথা বলতে যা বোঝায়, এটা ঠিক তাই।

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে ১০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে। জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ। ১৯৭৫ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায় দেশটি।

স্বাধীনতার মাত্র তিন বছর পর ১৯৭৮ সালে গিনির বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে মাঠে নামে কেপ ভার্দে। সেদিন ১-০ গোলে হেরেছিল তারা। ১৯৮২ সালে গঠিত হয় ফুটবল ফেডারেশন। ১৯৮৬ সালে ফিফা ও আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্যপদ মেলে।

তারপর দীর্ঘ নীরবতা। আফ্রিকান ফুটবলের তলানিতে পড়ে থাকা একটি দল। বিশ্বমঞ্চ তো দূরের কথা, মহাদেশেই পরিচিতি ছিল না।

২০১৩ সাল। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে প্রথমবার মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কেপ ভার্দে। শুধু যোগ্যতাই নয়, অভিষেক আসরেই কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকায়নি তারা। ২০১৫, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের আফকনেও অংশ নেয় দলটি। ২০২৩ আসরে ঘানা ও মোজাম্বিককে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে কেপ ভার্দে।

তারপর এলো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

২০২৬ বিশ্বকাপের আফ্রিকান বাছাইপর্বে শক্তিশালী ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে গ্রুপ সেরা হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পায় তারা। আইসল্যান্ডের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়ে কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে কেপ ভার্দের সঙ্গী হয় স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। কাগজে-কলমে তিনটি দলই কেপ ভার্দের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী।

প্রথম ম্যাচ স্পেনের বিপক্ষে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দে মাঠে নামে ঘরের ছেলের মতো নির্ভয়ে। ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে ০-০। গোটা ফুটবল বিশ্ব থমকে যায়।

দ্বিতীয় ম্যাচে উরুগুয়ে। এবার ২-২ গোলে ড্র। দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের কাছ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া— এটা আর কাকতালীয় নয়, এটা সামর্থ্যের প্রমাণ।

তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সৌদি আরব। নকআউটে যেতে সৌদিদের জয়ের দরকার ছিল। কিন্তু কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণের দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা। ম্যাচ শেষ ০-০ ড্রতে। গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ব্লু শার্কসরা।

তিন ম্যাচ, তিন ড্র, তিন পয়েন্ট— আর নকআউটের টিকিট।

এই অভিযানের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম গোলকিপার ভোজিনহো। স্পেনের মতো আক্রমণভাগকে ম্যাচজুড়ে গোলশূন্য রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। ভোজিনহোর অসাধারণ পারফরম্যান্স সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যার নাম অনেকেই জানতেন না, এখন তার ফলোয়ার কয়েক মিলিয়ন।

কেপ ভার্দের ফুটবলের রহস্য লুকিয়ে আছে একটি অনন্য কৌশলে। দেশটির মূল ভূখণ্ডে যত মানুষ থাকেন, তার চেয়ে বেশি কেপ ভার্দীয় থাকেন ইউরোপ ও আমেরিকায়। ইউরোপের নামী ক্লাবে খেলা এই প্রবাসী ও মিশ্র বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে বের করে জাতীয় দলে আনার নীতিই দেশটির ফুটবলের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। পর্তুগালের কিংবদন্তি নানি এবং ফ্রান্সের প্যাট্রিক ভিয়েরার শিকড়ও এই কেপ ভার্দেতে।

নকআউটে কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপ থেকে এক রাউন্ড বাকি থাকতেই চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করা দলটি। লিওনেল মেসি গ্রুপ পর্বে একটি হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ গোল করে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা। বিশ্বকাপে ১৮ গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে।

কাগজে-কলমে ব্যবধান বিশাল। কিন্তু কেপ ভার্দে যেভাবে স্পেন ও উরুগুয়েকে থামিয়েছে, তাতে আর্জেন্টাইন শিবিরে উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

এটা ফুটবল। এখানে রূপকথা লেখা হয় প্রতিদিন।

আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে সেই মহারণ— আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে।

আরও পড়ুন