EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

জনগণের অধিকার উপেক্ষা করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না: বিরোধীদলীয় নেতা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

জনগণের অধিকার উপেক্ষা করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না: বিরোধীদলীয় নেতা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা হচ্ছে অন্যায়-অবিচার, একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। যারা জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকার উপেক্ষা করবেন, ইতিহাস তাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছিল। সে সময় মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার হরণ করা হয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও সংকুচিত করা হয়েছিল।


৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর দেশে একের পর এক ক্ষমতার পালাবদল ও অস্থিরতা চলতে থাকে। ৭ নভেম্বর ভোরে সিপাহিরা বন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। সিপাহিদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংহতির মধ্য দিয়েই দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জনগণের গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও উপেক্ষিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে চায় বিরোধী দল। ন্যায়সংগত বিষয়ে সহযোগিতা এবং অন্যায় হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করাই তাদের নীতি। জনগণের সঙ্গে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করে গণভোটের রায় ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ আন্দোলনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের বিষয় নয়, এটি একটি মানসিকতা। যে কেউ ক্ষমতায় গিয়ে এতে আক্রান্ত হতে পারে।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। আধিপত্যবাদমুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পেছনে ছিল একদলীয় শাসন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনমনের ক্ষোভ। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও জনদুর্ভোগ বন্ধ করে ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আব্দুর রহমান মূসা, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত।

আরও পড়ুন