EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ডিজেল ছাড়াই চলছে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ এএম

ডিজেল ছাড়াই চলছে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ভারতের রেল যোগাযোগে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তির হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন। এটি চালাতে ডিজেল বা রেললাইনের ওপর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের প্রয়োজন হয় না। ট্রেনের ভেতরেই হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলে এটি। ফলে চলার সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ডিজেলের ধোঁয়া নির্গত হয় না। এ প্রক্রিয়ায় পানি ও তাপ তৈরি হয়।

দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুলাই হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রেলপথে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন ‘নমো গ্রিন রেল’ চলাচল শুরু করে। ১০টি কোচের ট্রেনটিতে দুটি হাইড্রোজেনচালিত ড্রাইভিং পাওয়ার কার ও আটটি যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে। এর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ কিলোওয়াট। ট্রেনটির সর্বোচ্চ পরিচালনগত গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার।

যেভাবে চলে হাইড্রোজেন ট্রেন

হাইড্রোজেন ট্রেন মূলত একধরনের বৈদ্যুতিক ট্রেন। তবে এটি বাইরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেয় না। ট্রেনের ট্যাংকে রাখা হাইড্রোজেন এবং বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেন ফুয়েল সেলে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ তৈরি হয়। সেই বিদ্যুৎ ট্রেনের মোটর চালায়। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় পানি ও তাপ তৈরি হয়। ট্রেনের ফুয়েল সেল ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে ব্যাটারি অতিরিক্ত শক্তি দেয়। ব্রেক করার সময় উৎপন্ন বিদ্যুতের একটি অংশও ব্যাটারিতে জমা রাখা যায়।

হাইড্রোজেন আসে কোথা থেকে

ট্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন আলাদাভাবে উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে হয়। হরিয়ানার জিন্দে ভারতীয় রেলওয়ে এ জন্য বিশেষ উৎপাদন ও সরবরাহকেন্দ্র তৈরি করেছে। সেখানে তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে পানি ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হয়। পরে উচ্চ চাপে গ্যাসটি সংরক্ষণ করে ট্রেনে সরবরাহ করা হয়।

জিন্দের স্থাপনায় প্রায় ৩ হাজার কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ ৫০০ বার চাপে গ্যাস রাখা হয় এবং ট্রেনের ট্যাংকে ৩৫০ বার চাপে সরবরাহ করা হয়।

পরিবেশ ও নিরাপত্তা

হাইড্রোজেন ট্রেন চলার সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ধোঁয়া নির্গত করে না। তবে হাইড্রোজেন উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হলে পুরো প্রক্রিয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি হতে পারে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে পানি ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করা হলে তাকে গ্রিন হাইড্রোজেন বলা হয়।

হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস। তাই ট্রেনে গ্যাস লিক, অতিরিক্ত তাপ ও আগুন শনাক্ত করার সেন্সর রয়েছে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। 

সব রেলপথে কি চলবে 

হাইড্রোজেন ট্রেন সব রেলপথে ডিজেল বা বৈদ্যুতিক ট্রেনের বিকল্প নয়। যেসব পথে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে, সেখানে সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহার সাধারণত বেশি সাশ্রয়ী। তবে যেসব রেলপথে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন ব্যয়বহুল বা কঠিন, সেখানে হাইড্রোজেন ট্রেন কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

ভারতীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের ৯৯ শতাংশের বেশি বিদ্যুতায়িত হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কিছু রুটে ডিজেলচালিত ট্রেনের বিকল্প হিসেবে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

তবে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ব্যয়, বিশেষায়িত ট্রেন নির্মাণ এবং জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র স্থাপন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিটির বিস্তার নির্ভর করবে এসব ব্যয় ও পরিচালনগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার ওপর।

আরও পড়ুন