বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ: জাতিসংঘ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চাকরির কথা বলে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। পরে তাঁদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। প্রতারণা ও জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের এমন প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন।
কমিশনের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করেছে কমিশন। এর মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও জোরপূর্বক নিয়োগের প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য ২৪৫ জনের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগকারীরা নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও নির্মাণশ্রমিকের চাকরির প্রলোভন দেখাতেন। তাঁদের উচ্চ বেতন, থাকার ব্যবস্থা, পেনশন ও রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হতো। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেককে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনেককে রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তাঁদের পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে অনেকে নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
বাংলাদেশিদের বিষয়ে তদন্ত কমিশন রাশিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে দেওয়া ভিসার নথি পেয়েছে। তবে কতজন বাংলাদেশিকে এভাবে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজন নিহত বা নিখোঁজ—প্রতিবেদনে তার নির্দিষ্ট হিসাব নেই।
চলতি বছরের মার্চে ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ অনুসন্ধানে অন্তত ১০৪ বাংলাদেশিকে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের তথ্য উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, প্রতারণা বা জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে নেওয়া ব্যক্তিদের ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। আটক বা আত্মসমর্পণ করলে তাঁরা যুদ্ধবন্দি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার এবং এসব ব্যক্তিকে রুশ সেনাবাহিনী থেকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিশন।

