EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

হুথিদের হামলা বন্ধে সৌদির ১০০ কোটি ডলার অর্থপ্রস্তাব, মধ্যস্থতায় ইরান!

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

হুথিদের হামলা বন্ধে সৌদির ১০০ কোটি ডলার অর্থপ্রস্তাব, মধ্যস্থতায় ইরান!

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের আকস্মিক তেহরান সফরের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ইরান আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে পৌঁছান, তাতে করে তিনি ১০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে অর্থ বহনের এ দাবিরও স্বাধীন কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। 

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর চলমান সংকটে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ। এর লক্ষ্য সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। ইরানের পক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের সম্মিলিত সামরিক সহায়তার কথা থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত পূর্ণমাত্রার সামরিক সহায়তা দেয়নি। তাদের ভূমিকা সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর মধ্যে সীমিত রয়েছে। 

এদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় দেশটির ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

হুথিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ছাড়া একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলনও পিছিয়ে দিতে হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

‘ইসরাইল হায়োম’-এর সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তার দাবি, তিন বছর আগে করা চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতা হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের অন্যতম কারণ। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতায় সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরকারি খাতের কর্মীদের বেতন পরিশোধে ব্যবহারের কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করতে হবে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব আগের চুক্তি থেকে সরে এসেছে। তাদের এ অবস্থানের পেছনে ইরানও সহায়তা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১০০ কোটি ডলারের অর্থপ্রস্তাব, তেহরানে অর্থ বহন করে নেওয়া এবং চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে ‘ইসরাইল হায়োম’-এর প্রতিবেদনে যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র: টাইম অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন