সৌদি আরব কেন হুতিদের থামাতে পারছে না
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর প্রশ্ন, কেন হুতিদের থামাতে পারছে না সৌদি আরব, জবাবে উঠে আসছে ব্যয়, কৌশল ও ইরানের সহায়তার হিসাব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা, সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ছবি: এপি
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও প্রাণঘাতী হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০-র বেশি মানুষ আহত হন। এক দশকের বেশি সময়ে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিপুল প্রতিরক্ষা বাজেট ও অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও হুতিদের ঠেকাতে সৌদির ব্যর্থতার পেছনে রয়েছে ব্যয়ের অসমতা, আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা ও ইরানের সহায়তা।
চলতি বছরের শুরুতে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এরপর রিয়াদ সামরিক তৎপরতা বাড়ালে উত্তেজনা তৈরি হয়। ইয়েমেনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড হুতিদের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে দেশটির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ বাস করেন। সৌদির বিমান হামলা ও সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানের জবাবে হুতিরা এখন সৌদির সংবেদনশীল তেল ও পর্যটন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
২০২৫ সালে সৌদি আরব প্রতিরক্ষায় প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা বিশ্বে অষ্টম সর্বোচ্চ। তাদের হাতে আছে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। কিন্তু হুতিদের একেকটি ড্রোনের খরচ ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার, অথচ তা ঠেকাতে সৌদির ছোড়া প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে।
হুতিরা একসঙ্গে ভিন্ন গতি ও উচ্চতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। প্রথমে ধীরগতির ‘সুইসাইড ড্রোন’ পাঠিয়ে রাডারকে বিভ্রান্ত করা হয়, পরে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। নিচু দিয়ে ওড়া ড্রোন উচ্চ-উচ্চতার রাডার ফাঁকি দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ও হিজবুল্লাহর কাছ থেকেও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে হুতিরা। অন্যদিকে সৌদি অস্ত্রের জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ওপর নির্ভরশীল।
লন্ডনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান মেনা অ্যানালিটিকার অ্যান্ড্রেয়াস ক্রিগ বলেন, হুতিদের প্রতিবার প্রতিরক্ষা ভেদ করার প্রয়োজন নেই। মাঝেমধ্যে দু-একটি সফল আঘাতই রিয়াদের মতো কৌশলগত স্থানে আতঙ্ক ছড়াতে যথেষ্ট। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর কেন্দ্রে রয়েছে রিয়াদ, যাকে পর্যটন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ইভেন্টের হাব করার লক্ষ্য রয়েছে।
ক্রিগের মতে, বিমানবন্দরে হামলায় সামরিক ক্ষতি কম হলেও অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। হামলার পর কয়েকটি দেশের দূতাবাস নিজ নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
