EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে সংঘাত, খাদ্যসংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

ইয়েমেনে সংঘাত, খাদ্যসংকটে ৭৪ শতাংশ পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত যেসব এলাকায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) কাজ করছে, সেসব এলাকার ৭৪ শতাংশ পরিবার ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চলতি বছরে এ হার সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এর আগেও সংঘাতের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়েছিলেন। বাস্তুচ্যুতদের অনেকে পানি ও খাবার ছাড়াই আদেন ও তাইজের আশপাশে পৌঁছাচ্ছেন।

ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সীমান্তপারের হামলা অনেকটা বন্ধ হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত বৃদ্ধি। এর প্রভাব দেশটির নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্যের পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়তে পারে।

সংঘাতের কারণে দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। ইয়েমেন তার প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে বন্দর, সড়ক ও বাণিজ্যপথে সামান্য বিঘ্নও খাদ্যের দাম ও সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। তাইজের কিছু এলাকায় মাত্র দুই সপ্তাহে গমের আটার দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ডব্লিউএফপির সহকারী নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ হলিংওয়ার্থ বলেছেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ইয়েমেনের খাদ্যনিরাপত্তায় ‘ভয়াবহ’ প্রভাব ফেলতে পারে। সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, ক্ষুধার সংকটও তত বাড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। 

ডব্লিউএফপির হিসাবে, ইয়েমেনে এরই মধ্যে ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টির শিকার।

সংঘাত থেকে পালিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি। তাইজ ও লাহজের দুটি বড় বাস্তুচ্যুতি এলাকায় সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে গরম খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়েছে। আরও ১৫ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে।

তবে অর্থ ও খাদ্য মজুতের সংকটও বড় হয়ে উঠেছে। জরুরি সহায়তা চালিয়ে যেতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডব্লিউএফপির প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার প্রয়োজন। নতুন অর্থ না এলে বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষ এবং ইতোমধ্যে সহায়তা পাওয়া ১৪ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য ও নগদ সহায়তার মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের বাইরেও পড়তে পারে। বাব আল-মান্দাব ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে খাদ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক দাম বাড়তে পারে। এতে খাদ্য আমদানিনির্ভর দরিদ্র দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের তাইজ ও হোদেইদার কিছু এলাকায় তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সময়ে সংস্থাটি ভবিষ্যতের জন্য রাখা খাদ্য মজুতও জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন