EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটনে শি-কে ট্রাম্পের বিরল অভ্যর্থনা, সম্পর্কে বরফ গলছে কী?

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

ওয়াশিংটনে শি-কে ট্রাম্পের বিরল অভ্যর্থনা, সম্পর্কে বরফ গলছে কী?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিরল কূটনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে ওয়াশিংটনের সামরিক বিমানঘাঁটিতে গিয়ে সরাসরি স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে প্রেসিডেন্ট শি পৌঁছালে ট্রাম্প ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে অভ্যর্থনা জানান।

সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানানোর ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। এর আগে ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে পোপ ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

শি’কে স্বাগত জানাতে বিমানঘাঁটিতে ছিল বিশেষ আয়োজন। বিমানের সিঁড়ির নিচে প্রায় ৩০ মিটার লাল গালিচা বিছানো হয় এবং দুই পাশে ২১ সদস্যের সামরিক সম্মান গার্ড রাখা হয়। দুই দেশের পতাকা প্রদর্শন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি আকাশে দুটি বি-১ বোমারু বিমানও উড়তে দেখা যায়।

ট্রাম্পের এই অভ্যর্থনা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শি’র তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের চলমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এর ফলে সমঝোতার মেয়াদ ১০ নভেম্বর থেকে বেড়ে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত হয়েছে।

বর্তমান বাণিজ্যবিরতির আওতায় দুই দেশ শুল্ক কমানো এবং নতুন করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বেসেন্ট বলেছেন, দুই মাসের বাড়তি সময় বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। তবে বর্তমান সমঝোতাই বহাল থাকবে, নাকি এর চেয়ে বড় চুক্তি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কে কি সত্যিই বরফ গলতে শুরু করেছে?

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে কিছু ইতিবাচক সংকেত অবশ্যই দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের নেতারা সরাসরি বৈঠকে বসছেন, বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ককে পুরোপুরি সংঘাতের দিকে না নিয়ে স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। চীনের পক্ষ থেকেও শি জিনপিংয়ের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে।

তবে সম্পর্কের বড় বিরোধগুলো এখনো রয়ে গেছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত প্রযুক্তি, বিরল খনিজ, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উচ্চপ্রযুক্তি ও এআই খাতে প্রতিযোগিতাও চালিয়ে যাচ্ছে। 

বাণিজ্যেও সব প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এপি-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগের সমঝোতার আওতায় চীনের মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা ও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার মতো কিছু প্রতিশ্রুতিতে অগ্রগতি সীমিত রয়েছে। বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প ও শির মূল বৈঠকে বাণিজ্য, বিরল খনিজ সরবরাহ, এআই এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র এআই-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে।

তাই শি’র প্রতি ট্রাম্পের বিরল অভ্যর্থনা এবং বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যাচ্ছে না। বরং এগুলোকে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে সংলাপ ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বড় কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নির্ভর করবে ট্রাম্প-শির বৈঠক এবং পরবর্তী আলোচনায় বাণিজ্য ও কৌশলগত বিরোধগুলো কতটা সামাল দেওয়া যায় তার ওপর।

সূত্র: এপি

আরও পড়ুন