হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চাপ বেড়েছে ইরানি রুটে
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে এ পথে মাত্র ৭৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে কেপলার-এর তথ্যের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে গত সপ্তাহে মোট জাহাজ চলাচল কমে ৭৭টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে হয়েছে ৩৩টি।
৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রণালিটি দিয়ে ২৮টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ২১টি জাহাজ প্রচলিত নৌপথের পরিবর্তে ইরানের একতরফাভাবে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। শুধু ৬ সেপ্টেম্বরই ৮টি জাহাজের মধ্যে ৭টি ওই রুট ব্যবহার করে।
কেপলারের বিশ্লেষণ বলছে, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং ইরানি রুটের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ঘটনা উপসাগরীয় বাণিজ্যে নিরাপত্তাঝুঁকির প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি শুধু জাহাজগুলোর সতর্কতামূলক অবস্থান নয় বলেও মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় পরিণত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের কারণে নৌ চলাচলে বিঘ্ন যাতে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার চেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে দেবে না।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে পারস্য উপসাগরে অবরোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, তেহরান পারস্য উপসাগরজুড়ে ‘নো-সেইল জোন’ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি অবরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ছিল একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব নৌ চলাচল নিষিদ্ধ অঞ্চল, এমনকি অবরোধের মাধ্যমে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে ইরানের সামরিক অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

-6a9a53752b18e.jpg)