EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ কি এবার দীর্ঘমেয়াদি? মধ্যপ্রাচ্যে ২০২৭ পর্যন্ত সেনা রাখার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ইরান যুদ্ধ কি এবার দীর্ঘমেয়াদি? মধ্যপ্রাচ্যে ২০২৭ পর্যন্ত সেনা রাখার প্রস্তুতি ট্রাম্পের
অ অ

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে। ইরানকে ঘিরে সামরিক বিকল্প খোলা রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে স্বল্পমেয়াদি অভিযান এবং দ্রুত সমাপ্তির লক্ষ্য থাকলেও এখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ও প্যারাট্রুপার।

৯ মাসের বদলে ১২ মাস মোতায়েন

ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিস্থিতির কারণে মার্কিন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্ব পালনের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। আগে অনেক ইউনিটের মোতায়েনের মেয়াদ ছিল নয় মাস। এখন তা বাড়িয়ে ১২ মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। কোনো কোনো ইউনিট এরই মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।

দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েনে মার্কিন সামরিক সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং সামরিক সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এরপরও ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে এই উপস্থিতি বজায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

সামরিক চাপের সঙ্গে অর্থনৈতিক অবরোধ

শুধু সামরিক চাপ নয়, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অর্থনৈতিক পতনের মুখে ইরান একটি অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

নভেম্বরের নির্বাচন, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

এদিকে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে তার রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনকে মাথায় রেখে তিনি যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।

এরই মধ্যে বুধবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো সময় ইরানে আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তাঁর দাবি, মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে ইরান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

২০২৭ পর্যন্ত প্রস্তুতি কেন?

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের মোতায়েনের সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা স্বল্পমেয়াদি নয়। প্রয়োজন হলে দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক চাপ বজায় রাখার সক্ষমতা ধরে রাখতেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান কি আরও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে যাচ্ছে?

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আরও পড়ুন