EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ১৪ দফা চুক্তি: হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক ইস্যুতে যা থাকছে

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ১৪ দফা চুক্তি: হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক ইস্যুতে যা থাকছে

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ১৪ দফার এ চুক্তির বিষয়গুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।

চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে হওয়া এ সমঝোতা স্মারকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’।

চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ না করায় এর আগে সমালোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নথিটি প্রকাশ করে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, এই সমঝোতা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ইরান তার পারমাণবিক বর্জ্য ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইরান ইতিবাচক আচরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় বিবেচনা করবে।

আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু হবে।

সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে বিষয়গুলোতে একমত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—

প্রথম, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। কোনো পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে না, সামরিক পদক্ষেপ নেবে না কিংবা শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেবে না। পাশাপাশি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাবে। দুই দেশই একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তৃতীয়, উভয় পক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে। প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

চতুর্থ, সমঝোতা সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে থাকা নৌ অবরোধ ও অন্যান্য বাধা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ইরান কাজ করবে। চূড়ান্ত চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে তাদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেবে।

পঞ্চম, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেবে তেহরান। এ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রপথের বাধা দূর করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে তারা। ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও নৌসেবা নিয়ে ইরান ওমানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।

ষষ্ঠ, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। ৬০ দিনের মধ্যে এ পরিকল্পনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড় দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।

সপ্তম, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থাকা বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএইএর সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলোও আলোচনার মাধ্যমে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অষ্টম, ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। দুই দেশ মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত হয়েছে। আইএইএর তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় করার বিষয়েও সম্মতি রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

নবম, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। পাশাপাশি অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন না করার কথাও বলা হয়েছে।

দশম, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকবে। এর আওতায় ব্যাংকিং, বিমা, পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

একাদশ, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ থাকা বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তহবিল ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার সময় দুই পক্ষ বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেবে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এসব সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দ্বাদশ, সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্তগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

ত্রয়োদশ, সমঝোতা সইয়ের পর দুই দেশ নির্ধারিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়ন শুরু করবে এবং একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চতুর্দশ, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। [সূত্র: সিএনএন]

আরও পড়ুন