এডিস মশার কবল থেকে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার উপায়
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত ১৮৪ জন। প্রতিরোধে সচেতনতাই ভরসা।
স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই ডিম পাড়ে এডিস মশা, তাই নিয়মিত পানি ফেলে দিন।
বর্ষার শেষ আর শরতের শুরু। আকাশ জুড়ে পেঁজা তুলোর মতো মেঘের আনাগোনা থাকলেও মাটির কাছাকাছি উড়ছে এক অদৃশ্য ক্ষুদ্র ঘাতক—এডিস মশা। আমাদের একটু অবহেলা বা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে এই মশা কেড়ে নিতে পারে প্রিয়জনের জীবন।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে সতর্কতা ও সচেতনতা গড়ে তোলাই এখন একমাত্র রক্ষাকবচ।
এডিস মশা চেনার উপায়
এডিস মশার শরীরে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যার কারণে একে ‘টাইগার মস্কিটো’ বলা হয়। আকারে ছোট হলেও এর কামড়ে হওয়া ডেঙ্গু জ্বর নিমেষেই একজন সুস্থ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে।
সাধারণ মানুষের ধারণা, এডিস মশা শুধু ভরদুপুরে কামড়ায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এডিস মশা শুধু দিনের বেলাই নয়, রাতে কৃত্রিম আলো-আঁধারিতেও সমানভাবে সক্রিয় থাকে।
কোথায় বংশবৃদ্ধি করে
এডিস মশা ড্রেন বা নর্দমার নোংরা পানিতে বংশবৃদ্ধি করে না। এরা ঘরের কোণে জমে থাকা স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। যেমন-
- বারান্দার ফুলের টব ও টবের নিচের প্লেট
- ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে জমে থাকা পানি
- ছাদ বা আঙিনায় ফেলে রাখা ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল ও পরিত্যক্ত টায়ার
- কমোড বা বালতিতে তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি
সপ্তাহের প্রতি শনিবারে নিজ উদ্যোগে ঘরবাড়ি তল্লাশি করে তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অভ্যাসই পারে এডিসের বংশবৃদ্ধি রুখে দিতে।
সুরক্ষায় করণীয়
দিনের বেলা বা আলো-আঁধারিতে ঘরের বাইরে বের হলে শরীর ঢেকে রাখা লম্বা হাতাযুক্ত পোশাক ও ফুলপ্যান্ট পরা উচিত, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
শুধু রাতে নয়, দিনে ঘুমানোর সময়ও অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না।
এতে অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। কেবল প্যারাসিটামল ও প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার (যেমন- খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি বা জুস) গ্রহণ করা উচিত।
‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এই স্লোগানকে কেবল মুখে না রেখে যাপনে রূপান্তর করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কেবল সরকারের বা সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক যুদ্ধ।
নিজের ঘর এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমেই কেবল এই অদৃশ্য ঘাতকের হাত থেকে আমরা নিজেদের ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারি।