রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে আয়রন, ভিটামিন সি ও পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব-
রক্তে হিমোগ্লোবিন-এর মাত্রা সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিমোগ্লোবিন হলো রক্তে থাকা একটি লৌহসমৃদ্ধ প্রোটিন। এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। তবে নানা কারণে অনেকের শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গিয়ে দুর্বলতা, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়, যা গুরুতর হলে রক্তাল্পতা-তে রূপ নিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে আয়রন, ভিটামিন সি ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার
হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে মুরগি বা গরুর কলিজা, লাল মাংস, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, পালং শাক, মসুর ডাল, কুমড়ার বীজ, খেজুর ও কিশমিশ। এসব খাবার শরীরে দ্রুত রক্তের ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
ভিটামিন সি-এর ভূমিকা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন সি ছাড়া শরীর আয়রন ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। তাই কমলা, লেবু, পেয়ারা, টমেটো, স্ট্রবেরি ও ব্রকোলির মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি।
বিট, আপেল ও ডালিমের উপকারিতা
হিমোগ্লোবিন বাড়াতে বিট, আপেল ও ডালিম বিশেষভাবে কার্যকর। বিটে রয়েছে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড, যা লাল রক্তকণিকা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন একটি আপেল বা ডালিম খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২
লাল রক্তকণিকা তৈরিতে ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম, দুধ, সবুজ শাকসবজি, কলা ও বাদামে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার আগে বা পরে এক ঘণ্টার মধ্যে চা বা কফি পান না করাই ভালো। কারণ এগুলো শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে সহজেই রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য নিয়ে আরো পরামর্শ জানতে ডেইলি সান বাংলা সাথেই থাকুন
-69e228189c1e7.jpg)

