স্মার্টফোনের কারণে অকালে বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন না তো
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতিই করছে না, বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে তিলে তিলে ধ্বংস করছে।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে আঙুল চালানো এখন অধিকাংশ মানুষের প্রাত্যহিক অভ্যাস। রিলস দেখা, পডকাস্ট শোনা বা প্রিয়জনের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটিং- আপাতদৃষ্টিতে বিনোদন মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ জৈবিক সংকট।
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতিই করছে না, বরং আপনার মস্তিষ্কের বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে তিলে তিলে ধ্বংস করছে।
স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো আমাদের শরীরে ‘মেলানিন’ হরমোন উৎপাদনে সরাসরি বাধা দেয়। এই হরমোনটি মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত পাঠানোর জন্য দায়ী।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই নীল আলো নিউরনের ডেনড্রাইটিক স্পাইন (যেখানে মানুষের স্মৃতি জমা থাকে) শুকিয়ে ফেলে। ফলে মানুষের শেখার ও মনে রাখার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। রাতে অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মূল কারণ।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রিচমন্ড ইন্টিগ্রেটিভ অ্যান্ড ফাংশনাল মেডিসিন এবং আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ, কর্ক-এর পৃথক গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফোন আসক্তির ফলে আমাদের পাকস্থলীর উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োম ধ্বংস হয়ে যায়।
‘আমাদের শরীরের ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন বা ‘সুখের হরমোন’ পাকস্থলীতে তৈরি হয়। ঘুমের অভাবে পাকস্থলীর ভারসাম্য নষ্ট হলে তা সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।’
বিজ্ঞানী জন লা পুমা এই অবস্থাকে ‘ডিজিটাল ওবেসিটি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক মানুষের মস্তিষ্ক এখন অতিরিক্ত তথ্যে ভারাক্রান্ত কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত। একে বলা হচ্ছে ‘প্রদাহজনিত বার্ধক্য’।
কৃত্রিম আলোর প্রভাবে পাকস্থলীর দেয়াল পাতলা হয়ে ক্ষতিকর প্রোটিন রক্তে মিশে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, যা ভবিষ্যতে আলঝেইমারস বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ফোনের প্রতিটি নোটিফিকেশন মস্তিষ্কে ডোপামিনের ক্ষুদ্র ডোজ সরবরাহ করে। ফলে মস্তিষ্ক এই সাময়িক উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা অনেকটা মাদকের নেশার মতোই ক্ষতিকর।
তবে বিজ্ঞানীরা আশার বাণীও শুনিয়েছেন। জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন (ফোন, ল্যাপটপ, টিভি) থেকে দূরে থাকতে হবে। বেলা তিনটার পর চা বা কফি এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।
প্রকৃতি ও জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাই হতে পারে এই ডিজিটাল মহামারি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।