মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুভসংঘের সচেতনতা ক্যাম্পেইন
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
মানিকগঞ্জে ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্পেইনে শুভসংঘের সদস্যরা।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংগঠনটির সদস্যরা।
রবিবার মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেউথা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তাঁরা ডেঙ্গুর কারণ, বিস্তার, প্রতিরোধের উপায় এবং এ রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকতে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মো. হাসান শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম তুষার।
ক্যাম্পেইনে বক্তব্য দেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান আশিক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক বুলবুল হাসান, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক তাহমিনা আফরিন মোহনা এবং সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক রাসেল সরকারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখা এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নয়। পরিবারের সদস্যদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিবেশী, সহপাঠী, সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্রচার-প্রচারণা এবং সচেতনতামূলক আলোচনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তারা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তাঁরা।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরি করা তাঁদের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
আয়োজকেরা মনে করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে মশার প্রজননস্থল কমানো এবং সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা পাওয়া সম্ভব। নিজেদের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদের সচেতন করার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ।