বগুড়ায় আজিজুল হক কলেজে ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলা ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘের কলেজ শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, উপসর্গ ও আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কিত লিফলেট ও নির্দেশিকা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও সবাইকে সচেতন হতে হবে। আজিজুল হক কলেজে ৪০ থেকে ৪২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি, পরিবার ও আশপাশের মানুষকে সতর্ক করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেকটাই সহজ হবে বলে জানান তিনি।
-6a9021902f4e8.jpg)
কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাজিবুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম বিপ্লব ও সদস্যসচিব রাফিউল ইসলামসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
বিতরণ করা লিফলেটে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয় তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত মশাবাহিত রোগ। এর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
লিফলেটে আরও বলা হয়, জ্বরের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে, তবে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জ্বর কমে যাওয়ার পরও নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, কালো পায়খানা, তীব্র পেটে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় লিফলেটে। এসব লক্ষণ অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ আজিজুল হক কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মুনিরুজ্জামান বলেন, পুরো ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। পরিবর্তনশীল আবহাওয়া ও পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে আমাদের এ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম নিশাত, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ-প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আহসান মনির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালহা এবং সদস্য মো. মেহেদী হাসান, আল ঈমরান, রাকিবুল হাসান, ফাহিমসহ শিক্ষার্থী রাহাত ও রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী বর্ষা।
শিক্ষার্থী বর্ষা বলেন, এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছি।