বন্দরের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিগত সরকারের আমলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতিতে জড়িত কেউ যেন দায়মুক্তি না পান, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিটি।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির অষ্টম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের ২০২০-২১ অর্থবছরের হিসাবসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট এবং মোংলা বন্দরের অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন অডিট আপত্তি ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বিনিয়োগে অনিয়ম এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অর্থ উত্তোলন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিটি।
সমস্যাগ্রস্ত ও বেসরকারি ব্যাংকে বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে বন্দর কর্তৃপক্ষের সব অর্থ সরকারি ব্যাংকে জমা রাখার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়।
এ ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ উৎসাহ বোনাস দেওয়া, নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানিতে ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া ই-বিলিং ও ই-পেমেন্ট চালুর সুপারিশ করা হয়।
চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং এবং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয়ের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও নিরপেক্ষ তদন্তের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক ও মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া অংশ নেন।
এ সময় হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
