ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতেও ভয়াবহ বায়ুদূষণ
তালিকায় ঢাকার ওপরে ছিল কুয়েত সিটি ও কলকাতা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়। এ সময় ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৬৪, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। তালিকায় ঢাকার ওপরে ছিল কুয়েত সিটি ও কলকাতা।
রাজধানীর পর্যবেক্ষণস্থলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণ রেকর্ড করা হয় আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন (বিআইডিএস) এলাকায়। সেখানে বায়ুমান সূচক ছিল ১৮৬। বারিধারা পার্ক রোডে ১৬৮, প্রগতি সরণি ও বেচারাম দেউড়িতে ১৬৭ এবং ধানমন্ডিতে ১৬১ স্কোর রেকর্ড করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডির দূষণের পেছনে স্থানীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার দূষণও দায়ী। কড়াইল বস্তির মাটির চুলায় রান্না ও বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া গুলশান-বনানীতে এবং কামরাঙ্গীরচরের দূষণ ধানমন্ডি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রগতি সরণির খোঁড়াখুঁড়ির ধুলাবালি বারিধারার দূষণ বাড়াচ্ছে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, লেকসংলগ্ন এলাকায় আর্দ্রতা বেশি থাকায় ধুলাবালি ও ধোঁয়ার কণা সহজে ছড়িয়ে যেতে পারে না। শীতকালে তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণেও দূষিত কণা নিচের বাতাসে আটকে থাকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, গুলশান ও বনানীর উঁচু ভবনগুলো স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে যানবাহন ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা দূষিত কণা বাতাসে আটকে থাকে।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএর দুর্নীতি কমানো জরুরি।
বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া বলেন, নির্মাণকাজে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বস্তি এলাকার বর্জ্য পোড়ানোও দূষণ বাড়াচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু জানান, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির আসন্ন সভায় আলোচনা করে পরবর্তী নীতি ও করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
সূত্র: বণিক বার্তা
