রূপগঞ্জে শব্দদূষণ বিরোধী মানববন্ধন ও পোস্টার প্রদর্শনী
বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মানববন্ধন ও পোস্টার প্রদর্শনী করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রূপগঞ্জ থানা শাখা। বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের তারাবো বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্যেরা অংশ নেন। পথচারী, চালক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে শব্দদূষণের ক্ষতির দিক তুলে ধরাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের দিকনির্দেশনায় এবং রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি আহসানুল হক ও সাধারণ সম্পাদক রিমনের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতা ও সদস্যেরা উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে দীর্ঘ সময় থাকলে শ্রবণশক্তি, ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক স্বস্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত পরিবেশ জরুরি। পোস্টারে অপ্রয়োজনে হর্ন না বাজানো, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নীরবতা বজায় রাখা এবং উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার বার্তা তুলে ধরা হয়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আবদুল হান্নান মিলটন বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগে নয়, মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেও শব্দদূষণ কমানো সম্ভব। তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগে যুক্ত হওয়া সমাজের জন্য ইতিবাচক।’
রূপগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি আহসানুল হক বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রত্যেকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় হর্ন ও অতিরিক্ত শব্দের ব্যবহার পরিহার করে আমরা নিজেরা যেমন সচেতন হতে পারি, তেমনি অন্যদেরও সচেতন করতে পারি। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য।’
সাধারণ সম্পাদক রিমন বলেন, ‘পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শব্দদূষণ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। আমরা চাই, মানুষ নিজের আচরণে পরিবর্তন এনে শব্দদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখুক। সচেতনতা তৈরির এ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’
অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, রাস্তাঘাটে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার, বিনা প্রয়োজনে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও শব্দের প্রতি অসচেতন আচরণ পরিহার করলে পরিবেশ আরও শান্ত ও স্বস্তিদায়ক থাকবে। আয়োজকেরা মনে করেন, শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়া কোনো একটি সংগঠনের নয়, সমাজের প্রত্যেকের সম্মিলিত দায়িত্ব।