EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মেলা থেকে তুলে নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

মেলা থেকে তুলে নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেলা থেকে স্বামী ও ভাইসহ এক নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা না নেওয়া এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা না করানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের ঘটনার প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা ও ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলা সংলগ্ন একটি মেলা থেকে স্বামী ও ছোট ভাইসহ তাকে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পাশের একটি ভবনের নিচতলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে রাত ৩টা পর্যন্ত ৭-৮ জন যুবক তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।

পরদিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে কালক্ষেপণ করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। তিনি আড়াইহাজারের ভাই ভাই স্পিনিং মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, মেলা থেকে বের হওয়ার পথে রবিন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তাদের পথরোধ করে। পরে তাদের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় নিয়ে গিয়ে সঙ্গে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর মোবাইল ফোন চাওয়া হলে তিনি ফোন বাড়িতে রেখে এসেছেন বলে জানান। তার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে রবিনসহ কয়েকজন বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে।

পরে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে স্বামী ও ভাইকে এক পাশে বসিয়ে রেখে ভবনের অন্য পাশে নিয়ে তাকে ৭-৮ জন ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাত ৩টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরদিন সকালে ওই নারী রবিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ দেন। তবে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রথমে ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বলা হলেও পরে আর পরীক্ষা করানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার এসআই আবদুল বাছেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় তারা ধর্ষণের মামলা নেননি। তার দাবি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর শরীরে যে ধরনের পরিস্থিতি থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি।


আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একটি সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্ত রবিনের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে ওই নারী অন্য একজনকে বিয়ে করে সংসার করছেন। সেই ক্ষোভ থেকে রবিন টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগটি প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেছে সূত্রটি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি তাকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারীকে ছিনতাইয়ের মামলা করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে ধর্ষণের ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তার ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ৭-৮ জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করলে ভুক্তভোগীর যে ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা, ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় তার কিছুই পরিলক্ষিত হয়নি।

আরও পড়ুন