EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

প্রায় দুই দশক ধরে তালাবদ্ধ কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি পাঠাগার

ডেইলি সান রিপোর্ট, লালমনিরহাট

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

প্রায় দুই দশক ধরে তালাবদ্ধ কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি পাঠাগার

ছবি: ডেইলি সান

অ অ

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কবি শেখ ফজলল করিমের স্মৃতিবিজড়িত পাঠাগারটি প্রায় দুই দশক ধরে তালাবদ্ধ। এতে নতুন প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাসস্ট্যান্ডের পাশে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত কবি শেখ ফজলল করিম স্মৃতি গণপাঠাগারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠাগারের ফটকের দুই পাশে দোকানপাট বসানো হয়েছে। সামনে ও আশপাশে জমে রয়েছে ময়লার স্তূপ। ভবনটির দেয়ালে নেই রঙের ছোঁয়া। মলিন হয়ে পড়েছে ঝুলন্ত সাইনবোর্ডও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

ফলে কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রটি শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকদের ব্যবহারের বাইরে রয়েছে।

এদিকে, কাকিনায় কবির জন্মভিটায় থাকা স্মৃতিচিহ্নগুলোও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে কবির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানের এক পাশে কবি শেখ ফজলল করিম শায়িত আছেন। টিনশেডের আধাপাকা বাড়ির একটি কক্ষে রাখা হয়েছে তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী।

এর মধ্যে রয়েছে কাঠের খাট, আরামচেয়ার, টুপি, দোয়াত-কলম, ছোট আকৃতির কোরআন শরিফ, ম্যাগনিফায়িং গ্লাস, বোতামসহ বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন।

পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব সামগ্রী সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে লোকবল ও আর্থিক সংকটে তা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেশ-বিদেশ থেকে সাহিত্যানুরাগীরা কবির বাড়িতে এলেও দর্শনার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা বা নিয়মিত প্রদর্শনীর আয়োজন।

কবির নাতির ছেলে শেখ ফিরোজ বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত থেকে অনেক মানুষ কবির বাড়িতে আসেন। কিন্তু লোকবল ও আর্থিক সংকটে স্বজনদের পক্ষে এই স্মৃতি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উদ্যোগে একটি জাদুঘর নির্মাণ করে কবির ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক’ কবিতাটি একসময় পাঠ্যপুস্তকে ছিল। কবিতাটি পুনরায় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

কাকিনার অধিবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী কবির হোসেন বলেন, কবির স্মৃতি এভাবে নষ্ট হতে দেখে আমরা ব্যথিত। পাঠাগারটি দ্রুত চালু ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে মাঝেমধ্যে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও সারা বছর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও পাঠাগার পরিচালনায় নিয়মিত উদ্যোগ দেখা যায় না।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বন্ধ হয়ে থাকা পাঠাগারটি দ্রুত চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কবির ব্যবহৃত দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

কবি শেখ ফজলল করিম ১৮৮২ সালের ১৪ এপ্রিল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আমীর উল্লাহ সরদার ছিলেন কাকিনা মহারাজার রাজকর্মচারী এবং মাতা কোকিলা বিবি।

১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কাকিনায় মৃত্যুবরণ করেন কবি শেখ ফজলল করিম।

নতুন প্রজন্মকে কবি শেখ ফজলল করিমের সাহিত্য ও মানবিক আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশা লালমনিরহাটবাসীর।

আরও পড়ুন