এসআই আলতাফ হত্যা: হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডে হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আপন ও জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ। তাদের আগের অপরাধের রেকর্ডও রয়েছে। তারা ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার সময় হামলাকারীরা সবাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
র্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে আমিনবাজারের একটি গ্যারেজের মালিককে মারধরের সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। এ সময় তার সঙ্গে হামলাকারীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।
এরপর হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌড়ে তাঁর ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে।
পরে তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে মারধর করে। এ সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, আলতাফ হোসেনকে আগে থেকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি। তিনি সিভিল পোশাকে ছিলেন এবং একজন বৃদ্ধকে মারধর করতে দেখে মানবিক কারণে বাধা দিতে এগিয়ে যান। ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হামলায় জড়িতদের বিষয়ে র্যাব জানায়, আলাউদ্দিন আলতাফ হোসেনকে আঘাত করেন। জিহাদ চাকু দিয়ে তাঁকে জখম করেন। আপন ওই এলাকার গ্যাংয়ের মূল হোতা। তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলাও রয়েছে। তিনি এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফ হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। ইমরানও গণপিটুনিতে অংশ নেন।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক জানান, এ ঘটনায় র্যাব-১০ চারজন এবং র্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সব মিলিয়ে এজাহারনামীয় ১৫ আসামির মধ্যে আটজনকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে সাভারের আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ আরও নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। মূল হোতা জহিরুল ইসলামের ১০ দিন এবং অন্য আটজনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা নাগরিকদের কোনো সমস্যা দেখলে শুধু ছবি বা ভিডিও না করে প্রয়োজনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমলযোগ্য অপরাধ হলে পুলিশ ছাড়াও সাধারণ মানুষ অপরাধীকে আটক করে পুলিশের কাছে দিতে পারেন।
-6a9c3da08fbf2.jpg)
