নন্দিনী হত্যার দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেন ত্রাণমন্ত্রী
আসামি বিধান চন্দ্র আদালতে হত্যার দায় স্বীকার, দুই আসামি কারাগারে
লাল
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে নিহত শিশু নন্দিনী রানীর বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকারের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান তিনি।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এই নির্মম ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। পুলিশ শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে এবং বিচারে কোনো বিলম্ব হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রোকন উদ্দিন বাবুল, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান ও পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আসামি বিধান চন্দ্র (২০) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিধান ও তার বাবা রঞ্জিত কুমারকে (৪২) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে বিধান স্বীকার করেছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
জানা গেছে, এক মাস আগে নন্দিনীর বড় ভাইয়ের (১৩) সঙ্গে নলকূপের পানি প্রবাহ নিয়ে বিধান চন্দ্রের বিরোধ হয়। সেই ক্ষোভ থেকে সোমবার বিকেলে শিশু নন্দিনীকে হত্যা করে বস্তায় ভরে ভুট্টাক্ষেতে পুঁতে রাখেন বিধান। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আসামিদের গ্রেপ্তারের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিজিবি কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পুলিশ সুপার ও ওসিসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন এবং সাতটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।
নন্দিনীর মা সাবিত্রী রাণী বলেন, আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিয়েছে। আমি হত্যাকারী, তার বাবা-মা সবার ফাঁসি চাই। নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বলেন, আমার মেয়েকে কেন হত্যা করা হলো, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
