সালমানকে ঘিরে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের কারণ কী?
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মুম্বাইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর আবার আলোচনায় এসেছে সালমান খান ও গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দলের বিরোধ। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধের পেছনে রয়েছে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের প্রাণী সংরক্ষণসংক্রান্ত বিশ্বাস ও দীর্ঘ আইনি লড়াই।
মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় রোববার পুষ্পা নার্সারি পার্কের বাইরে অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে সালমান খানকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। গুলির দায়ও ওই অডিওতে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সালমান খানকে ঘিরে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় হরিণ শিকারের অভিযোগ থেকে। ওই ঘটনায় চিঙ্কারা ও বিপন্ন প্রজাতির কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। চিঙ্কারা শিকারের মামলায় সালমান খালাস পেলেও কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলায় ২০১৮ সালে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিল বিচারাধীন।
বিষ্ণোই সম্প্রদায় প্রাণী, পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখে। এ কারণে হরিণ শিকারের অভিযোগটি তাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আবেগের বিষয়। সম্প্রদায়ের সদস্যরা দুই দশক ধরে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াইয়ে যুক্ত রয়েছেন।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম এই বিরোধে আলোচনায় আসে ২০১৮ সালে। সে সময় যোধপুরের আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সালমান খানকে হত্যার হুমকি দেন বলে প্রতিবেদন রয়েছে। পরে সালমানকে ঘিরে হুমকি ও সহিংসতার ঘটনাগুলোকে গ্যাংয়ের পরিচিতি বাড়ানো এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
রাজস্থানের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্সের প্রধান এম এন দীনেশের মতে, সালমান খানকে ঘিরে আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে গ্যাংটি প্রচার পেতে চায়; তাদের মূল লক্ষ্য চাঁদাবাজি। তবে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, তাঁরা সালমানের বিরুদ্ধে আইনি বিচার চান, সহিংসতা নয়।
যোধপুরের বিষ্ণোই নেতারাও গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্প্রদায়ের বিশ্বাসকে এক করে দেখতে নিষেধ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষার বিশ্বাসের সঙ্গে সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই।
টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার সঙ্গে সালমান খান সরাসরি জড়িত—এমন তথ্য প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে ঘটনাটি ১৯৯৮ সালের শিকারের মামলা এবং সালমানকে ঘিরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পুরোনো বিরোধকে আবার আলোচনায় এনেছে।
