EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধে ডিজিটাল পেমেন্টে ধস

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধে ডিজিটাল পেমেন্টে ধস

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রাশিয়ার একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সফটওয়্যার মাইগ্রেশন নিয়ে বিরোধের জেরে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোয় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। রোববার রাত থেকে লাখ লাখ গ্রাহক কার্ড লেনদেন, এটিএম ও আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সেবায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী পেমেন্ট প্রসেসর ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্টস লিমিটেডের (আইটিসিএল) সঙ্গে রুশ প্রতিষ্ঠান কম্পাস প্লাসের বিরোধ থেকেই এ সংকটের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে আইটিসিএল।

আইটিসিএলের দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্রাসেলসভিত্তিক ওপেনওয়ের তৈরি ‘ওয়ে৪’ দিয়ে প্রতিস্থাপনের উদ্যোগের কথা জানতে পেরে কম্পাস প্লাস তাদের সার্ভারে একটি ক্ষতিকর স্ক্রিপ্ট বসিয়ে দেয়। স্ক্রিপ্টটি প্রতি আট ঘণ্টা পরপর সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিস্টার্ট করায় রাউটিং টেবিল মুছে যায় এবং নেটওয়ার্কের ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ব্যাহত হয়।

আইটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাজী সাইফুদ্দিন মুনির বলেন, সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর বিকাশসহ অংশীদার ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। গ্রাহকদের তথ্য নিরাপদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আগস্টে কম্পাস প্লাসের প্ল্যাটফর্ম ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় আইটিসিএল। এরপর বিরোধ তীব্র হয়। আইটিসিএলের অভিযোগ, কম্পাস প্লাস কারিগরি সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ লাখ ডলার মাইগ্রেশন ফি দাবি করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনযুক্ত আগাম পেমেন্ট গ্যারান্টিও চাওয়া হয়। 

সংকট নিরসনে সোমবার ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ও আইটিসিএলকে নিয়ে আলোচনায় বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পূর্বঘোষণা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট সেবা বন্ধ করায় আইটিসিএলের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এটি কারিগরি সমস্যা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করতে না পারায় কার্ডধারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

তিনি জানান, পূর্বঘোষণা ছাড়া সেবা বন্ধ করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের আগে গণমাধ্যম, টেলিভিশন ও সরাসরি খুদে বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদের আগাম জানানো বাধ্যতামূলক।

দেশের ৩৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে পেমেন্ট প্রসেসিং ও গেটওয়ে সেবা দেয় আইটিসিএল। ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি), এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফারসহ (আইবিএফটি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশের ব্যাংকিং ও কার্ড লেনদেনের প্রায় ৭০ শতাংশ আইটিসিএলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে হঠাৎ সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে লাখ লাখ গ্রাহক দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও এটিএম বুথে ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই মোবাইল অ্যাপে লেনদেন বা অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সও দেখতে পারেননি। 

আইটিসিএলের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে সদস্য ব্যাংকগুলোর অভিযোগ, সেবা বন্ধের আগে তাদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।

ট্রাস্ট ব্যাংকের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, আইটিসিএল সেবা বন্ধের দিনই বিষয়টি ব্যাংককে জানায়। গ্রাহকদের জানানোর জন্য কোনো সময় দেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, ট্রাস্ট ব্যাংকের ডেবিট কার্ড আন্তর্জাতিক ভিসা ও দেশীয় এনপিএসবি নেটওয়ার্কে সচল থাকলেও তাদের ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড ও কিউ-ক্যাশ এটিএম নেটওয়ার্ক অচল রয়েছে।

সূত্র: টিবিএস 

আরও পড়ুন