সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ক্রুড অয়েল আমদানির চেষ্টা সুপার পেট্রোকেমিক্যালের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণাধীন রিফাইনারি প্ল্যান্টে পরিশোধনের জন্য বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির অনুমতি চেয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও আইনবহির্ভূত বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে ২০২৭ সালের জন্য ৪ লাখ টন লাইট ক্রুড ও ৮ লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার।
চিঠিতে ২০২৭ সালে বিপিসিকে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল সরবরাহের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড আমদানির অনুমতি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গত ১৪ জুলাই জ্বালানিমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতেও নির্মাণাধীন প্ল্যান্টে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড এনে পরিশোধনের আগ্রহ জানিয়েছিল তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কনডেনসেট ও লাইট ক্রুড একই ধরনের তেল নয়। কনডেনসেট গ্যাসক্ষেত্রের উপজাত, অন্যদিকে লাইট ক্রুড তেলক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা হয়। তাই এ দুটিকে একইভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তিমালিকানায় রিফাইনারি নির্মাণ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। এটি আইনের লঙ্ঘন। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
বিপিসি চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের চিঠি পর্যালোচনা করছে বিপিসির একটি দল। তবে সরকারি অনুমোদন ছাড়া প্ল্যান্টটির কার্যক্রম চলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৭ টন বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য বিপিসিকে সরবরাহ করেছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। তবে এবার হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
