EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

সাসটেইনাবিলিটি লিডারশিপ (টিএসএল) অ্যাওয়ার্ডের আবেদন আহ্বান

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

সাসটেইনাবিলিটি লিডারশিপ (টিএসএল) অ্যাওয়ার্ডের আবেদন আহ্বান
অ অ

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাটেক্সপো ২০২৬ আগামী ১৮–১৯ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । এই মেগা ইভেন্টে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে পিডিএস লিমিটেড।

এবারের বাটেক্সপো ২০২৬ এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সাসটেইনেবিলিটি ক্ষেত্রে গৃহীত উদ্যোগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে রাখা অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাসটেইনাবিলিটি লিডারশিপ (টিএসএল) অ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), জার্মানি-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড এর ‘স্টাইল ২’ প্রকল্পের মাধ্যমে এবং জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন ফেডারেল মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই সম্মননা প্রদান করা হচ্ছে। 

এই ইভেন্টে মোট ৪টি ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদান রাখা ১২টি উদ্যোগকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর।

বিজিএমইএ বাটেক্সপো ২০২৬ এ টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন বা মনোনয়ন জমা দিতে ইচ্ছুক কারখানাগুলোকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে www.batexpo.com.bd/tsl-awards ভিজিট করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ২২ অক্টোবর। 

টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের প্রেক্ষাপট: 

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প গত এক দশক ধরে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কঠোর কমপ্লায়েন্স এবং দীর্ঘ পরিশ্রমে অর্জিত বিশ্বাসের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে তার সুনাম পুনর্নির্মাণ করেছে। টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের মূল লক্ষ্য হলো এই অর্জনগুলোকে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে বরং সেগুলোকে দৃশ্যমান করে তোলা এবং যথাযথভাবে উদযাপন করা।

এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাতের সেরা টেকসই অনুশীলনগুলোকে খুঁজে বের করে এবং সম্মান জানায়। এটি এমন সব অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেয়, যাদের শ্রমিক কল্যানমুখী কর্মপরিবেশ, পরিবেশগত নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং সকল প্রতিকুলতার সাথে মানিয়ে নেয়ার সক্ষমতা নীরবে আধুনিক কারখানার ধারণাকে নতুনভাবে সজ্ঞায়িত করছে।

বর্তমান বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, রিসাইক্লিং, সার্কুলার ইকোনমি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী সবুজ কারখানা পরিচালনা এখন আর বিকল্প কোনো পছন্দ নয়, বরং বিশ্ববাজারে টিকে থাকার অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তিকে আরও দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব সোর্সিং হাব হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

অ্যাওয়ার্ডের ৪টি প্রধান ক্যাটাগরি ও ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ‘পিপল ফার্স্ট’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ক্ষেত্রগুলো হলো শ্রমিক কল্যাণ, মডেল ফ্যাক্টরি, উইমেন ইন লিডারশিপ এবং কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন। পরিবেশবান্ধব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্ল্যানেট পজিটিভ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে সাসটেইনেবিলিটি লিডার অব দ্য ইয়ার, ওয়াটার গার্ডিয়ান এবং সার্কুলার টেক্সটাইল পাইয়োনিয়ার।

আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগের জন্য ‘নেক্সট ফ্রন্টিয়ার’ ক্যাটাগরির অধীনে রয়েছে বিজনেস ইনোভেটর অব দ্য ইয়ার, ফিউচার-রেডি অ্যাওয়ার্ড এবং ওয়ার্কার-সেন্ট্রিক ইনোভেশন।

এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের জন্য নির্ধারিত ‘রাইজিং স্ট্রেন্থ’ ক্যাটাগরিতে থাকছে স্মল ফ্যাক্টরি বিগ ইমপ্যাক্ট, রিসোর্সফুল ইনোভেশন এবং গ্রোয়িং রেসপন্সিবলি অ্যাওয়ার্ড।

মর্যাদাপূর্ণটিএসএল অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের পরিবর্তিত চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের কারখানাগুলো আজ সবুজায়ন এবং উদ্ভাবনে অনন্য নজির স্থাপন করছে। সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড আমাদের সেই দূরদর্শী উদ্যোক্তা ও কারখানাগুলোর অবদানকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরবে, যা সামগ্রিক খাতকে আরও বেশি প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে।’’

জার্মানি-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের এর ‘সাসটেইনাবিলিটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ইন্ড্রাস্ট্রিজ’ (স্টাইল/ স্টাইল টু) প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মাইকেল ক্লোড বলেন,

‘বিজিএমইএ এর সাথে আমাদের দীর্ঘ অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায়, জিআইজেড বাটেক্সপো ২০২৬ এর ‘সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ এর সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত।

তিনি বলেন, ‘২০১২ ও ২০১৪ সালের সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২২ সালের টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের পূর্ববর্তী সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগটি এমন কারখানাগুলোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, যারা পরিবেশগত সাসটেইনেবিলিটি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইএসজি এর ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের পরিচয় দিচ্ছে।’

ড. মাইকেল এই পুরস্কার সাসটেইনেবিলিটি চর্চার আরও ব্যাপক প্রসার ঘটাবে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আরও দায়িত্বশীল, সহনশীল ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সাসটেইনেবিলিটি আমাদের কাছে কোনো বিলাসিতা বা ধার করা ট্রেন্ড নয়। এটি আমাদের টিকে থাকার শর্ত। নদী ও জলবায়ুর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে কোটি শ্রমিকের, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ নারী। তাদের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা আমাদের পোশাক শিল্প আজ অর্থনীতির মেরুদণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করছে, তখন টিএসএল অ্যাওয়ার্ড  সেইসব দূরদর্শী কারখানাকে সম্মানিত করছে, যারা মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখেন। যখন তারা নেতৃত্ব দেন, তখন ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ কেবল একটি লেবেল থাকে না, একটি প্রতিশ্রুতিতে রূপ নেয়।’

আরও পড়ুন