EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে হালাল পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা আছে: ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্যে হালাল পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা আছে: ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত
অ অ

বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রচলিত বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে হালাল পণ্য ও সেবাখাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।

সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই এবং ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ  মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন ও পোশাক, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। হালাল অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাজারকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে পারে।

তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। এ প্রদর্শনীতে অংশ নিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে ইন্দোনেশিয়া। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ ইন্দোনেশিয়ান দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, হালাল পণ্য বলতে শুধু খাদ্য বা মাংসজাত পণ্যকে বোঝায় না। এর আওতায় পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন, পর্যটনসহ বিস্তৃত খাত অন্তর্ভুক্ত।

তিনি আরও বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।

সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্স (কেএনইকেএস)-এর মহাপরিচালক পুতু রাহউইধিয়াসা।

তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশটি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।

উপস্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে অবস্থান করেছে। এ তালিকায় দেশটির আগে রয়েছে কেবল তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এ ছাড়া গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্সে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। হালাল খাদ্য খাতে দেশটির অবস্থান চতুর্থ এবং ফ্যাশন ও পোশাক খাতে ষষ্ঠ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে হালাল খাদ্য খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার সম্ভাব্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে হালাল পোশাক খাতে মুসলিম ভোক্তাদের ব্যয় ছিল প্রায় ২৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো সদস্য দেশগুলোর হালাল অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। পাশাপাশি বাংলাদেশের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক ও গতিশীল করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল যাতে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য, পররাষ্ট্র, শিল্প ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন