তৈরি পোশাক কারখানার লাইসেন্স নবায়নে শিল্পবান্ধব সমাধানের আহ্বান বিজিএমইএর
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার লাইসেন্স নবায়ন, এসএমই কারখানার বাস্তবতা এবং শিল্পবান্ধব সমাধান নিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফে) এবং বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় ডাইফের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সঙ্গে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সভায় বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, ডাইফের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিজিএমইএ নেতারা নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শককে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিল্পখাতের উন্নয়ন ও শ্রমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সফলতা কামনা করেন।
মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প সবসময় কলকারখানা আইন ও নিরাপত্তা নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আরএসসি, নিরাপন, এনএপি ও অন্যান্য কমপ্লায়েন্স কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিল্প টিকিয়ে রাখার মতো বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ হয়ে গেলে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, কর্মসংস্থান কমে যাবে এবং রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শিল্প সচল রেখে কমপ্লায়েন্স উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ইনামুল হক খান আরও বলেন, বর্তমান সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আলোকে সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে বন্ধ হওয়া তৈরি পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বিজিএমইএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, ডাইফের তত্ত্বাবধানে এনএপি মনিটরিংয়ের আওতাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ কারখানার মধ্যে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রায় ৩০০ কারখানা চালু রয়েছে। শতভাগ কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান (ক্যাপ) বাস্তবায়নের শর্তে লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ভাড়া ভিত্তিক বা পুরোনো অবকাঠামোতে পরিচালিত এসএমই কারখানাগুলোর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সব কমপ্লায়েন্স শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যেসব কারখানা গত বছর লাইসেন্স নবায়ন পেয়েছে এবং বর্তমানে সংস্কার ও কমপ্লায়েন্স উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোকে বাস্তবতা বিবেচনায় শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সভায় বিজিএমইএ নেতারা জানান, ইতোমধ্যে এসএমই কারখানাগুলোকে ধাপে ধাপে কমপ্লায়েন্সভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
এ সময় তারা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানার লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনও এক বছরের বেশি নবায়ন করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ডাইফের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক বলেন, পাঁচ বছরের লাইসেন্স নবায়ন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ফি ও প্রক্রিয়াগত বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব কারখানার গত বছর লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে, সেগুলোর আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যখন বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, তখন বিদ্যমান শিল্পকারখানা সচল রাখতে ডাইফে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিদর্শকদের আরও সমন্বিত ও গাইডলাইনভিত্তিকভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।