ছবি: একজন স্মার্ট ও সচেতন পর্যটক হতে চাইলে কিছু বিষয় আপনার কমন সেন্সে থাকা জরুরি। সংগৃহীত
পর্যটক হতে শুধু টাকা আর পাসপোর্ট থাকলেই চলে না। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন উপস্থিত বুদ্ধি ও সতর্কতা। সামান্য অসতর্কতা বা সাধারণ জ্ঞানের অভাব একটি সুন্দর ভ্রমণকে মুহূর্তে বিষাদে পরিণত করতে পারে।
একজন স্মার্ট ও সচেতন পর্যটক হতে চাইলে যে বিষয়গুলো আপনার কমন সেন্সে থাকা জরুরি, সেগুলোই জেনে নিন।
টাকা ও মূল্যবান জিনিসের স্মার্ট ব্যবস্থাপনা
আপনার সব টাকা, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড এবং আইডি কার্ড কখনো এক ব্যাগে বা এক পকেটে রাখবেন না। টাকা সবসময় অন্তত ৩-৪টি ভিন্ন জায়গায় ভাগ করে রাখুন।
এছাড়া সবসময় কিছু খুচরা টাকা বা ক্যাশ সাথে রাখুন। সব জায়গায় অনলাইন পেমেন্ট বা কার্ড নাও চলতে পারে।
দেখানো ভাব ছেড়ে সত্যিকারের ট্যুরিস্ট হন
গলায় দামী ক্যামেরা ঝুলিয়ে, পকেট থেকে টাকার বান্ডিল বের করে হিসাব করা, স্বর্ণ বা দামি ধাতুর অতিরিক্ত গহনা পরা এড়িয়ে চলুন। এতে আপনি সহজেই পকেটমার বা ছিনতাইকারীদের নজরে পড়বেন। মনে রাখবেন এই ধরণের গ্রুপগুলো পর্যটকগুলো আশেপাশেই থাকে।
ইলেকট্রনিক ডিভাইসের চার্জ চেক করুন
ভ্রমণের সময় ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়। জিপিএস ম্যাপ দেখা বা জরুরি যোগাযোগের জন্য একটি ফুল-চার্জড পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা প্রাথমিক কমন সেন্স।
লাইভ লোকেশন শেয়ার
অচেনা কোনো ট্র্যাকে ট্রেকিং বা একা ভ্রমণ করলে পরিবারের বিশ্বস্ত কারও সাথে আপনার ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করে রাখুন।
পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়ানো
স্টেশন বা হোটেলের ফ্রি ওপেন ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং লেনদেন বা পাসওয়ার্ড ইনপুট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
ছবি তোলা ও সোশ্যাল মিডিয়া 'হুজুগ'এ সাবধানতা
ট্রেনের দরজায় ঝুলে, বিপজ্জনক পাহাড়ের খাদে বা উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার মতো বোকামি করবেন না। কোনো ছবিই জীবনের চেয়ে দামি নয়।
অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা
পার্বত্য অঞ্চল বা যেকোনো স্থানীয় জায়গায় মানুষ, বিশেষ করে কোনো নারী, শিশু বা তাদের ঘরবাড়ির ছবি তোলার আগে ইশারায় হলেও অনুমতি নিন। সামরিক বা সংবেদনশীল সরকারি স্থাপনার ছবি তোলা আইনত অপরাধ, এটা মাথায় রাখুন।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং পোশাক-পরিচ্ছদের শালীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। কোনো জায়গায় বিরোধের সম্মুখীন হলে আচরণে সংযত ও ভদ্রতা দেখিয়ে ঝামেলা এড়িয়ে যেতে হবে।
কেনাকাটা ও যাতায়াতে প্রতারণা থেকে বাঁচা
বেড়াতে গিয়ে দরদাম না করেই যা দেখি তাই কিনবেন না। আগে দাম জানুন, তারপর কিনুন। জিনিসটা সত্যিই কেনার মতো কীনা, সেটা যাচাই করুন। সাধারণত ট্যুরিস্ট স্পটে যাতায়াত থেকে শুরু করে দোকানগুলোতে সব জিনিসের দাম ৩-৪গুণ বেশি থাকে। তাই কেনাকাটা ও যাতায়াতে একটু বুদ্ধি খরচ করুন।
অতিরিক্ত সস্তা মানেই সন্দেহজনক
কোনো হোটেল বা গাইড যদি অবিশ্বাস্য রকম কম দামে অফার করে, তবে শুরুতেই সতর্ক হন। এর পেছনে কোনো গোপন চার্জ বা স্ক্যাম থাকতে পারে।
অচেনা মানুষের সাথে অতিরিক্ত আলাপের ফাঁদ
ট্রেনে বা বাসে অপরিচিত কেউ অতিরিক্ত খাতির জমালে বা কোনো খাবার/পানীয় অফার করলে বিনম্রভাবে "ধন্যবাদ, লাগবে না" বলে এড়িয়ে যান। মলম পার্টি, ডেভিলস ব্রেথ ইত্যাদি গ্রুপগুলো এভাবেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে থাকে।
হোটেলের কার্ড সাথে রাখা
নতুন শহরে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় হোটেলের একটি বিজনেস কার্ড বা ঠিকানা লেখা কাগজ পকেটে রাখুন। ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকলে বা চার্জ শেষ হলে এটি আপনাকে পথ চিনতে সাহায্য করবে।
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব স্মরণে রাখুন
পর্যটন কেন্দ্রে পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট বা ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা ফেলুন। ডাস্টবিন না পেলে নিজের ব্যাগে আলাদা পলিব্যাগে রাখুন।
পাহাড়ি অঞ্চল বা বনাঞ্চলে ভ্রমণের সময় বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করা, গাছের ক্ষতি করা বা প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করা আইনত ও নৈতিকভাবে অপরাধ। অযথা চিৎকার করা, উচ্চস্বরে ডিজে পার্টি করা, গান করা এসব শব্দ দূষণ করা থেকে বিরত থাকুন।
"আমি এসেছি" বোঝাতে পাহাড়ের গায়ে, গাছের ছালে বা ঐতিহাসিক দেয়ালে নাম খোদাই করা অত্যন্ত সস্তা মানসিকতার পরিচয়। এগুলো যেকোনো স্থানের সৌন্দর্য নষ্ট করে।
'ভ্রমণ করুন কিন্তু কোনো নেতিবাচক চিহ্ন রেখে আসবেন না'—এই নীতি মেনে চললে পর্যটন শিল্প আরও টেকসই ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। একজন পর্যটক শুধু ভ্রমণ করলেই হবে না। পরিবেশ, প্রকৃতি, প্রাণ বৈচিত্র, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি একজন পর্যটকের দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্বগুলো অনুধাবণ করলে এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।