ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কক্সবাজারে পর্যটকের জোয়ার
‘কুয়াশাচ্ছন্ন সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম’, বলেন এক পর্যটক দম্পতি।
ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: সৌরভ দেব
ক্যালেন্ডারের পাতায় পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহ। রাজধানীর হাড়কাঁপানো শীত যখন জনজীবনকে স্থবির করে দিচ্ছে, ঠিক তখনই দেশের সর্বদক্ষিণের জনপদ কক্সবাজার থেকে আসছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের খবর। ইংরেজি বছরের শেষ সময়টুকু সমুদ্রের সান্নিধ্যে কাটাতে এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বঙ্গোপসাগরের তটে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
এবারের পর্যটন মৌসুমের বাড়তি আকর্ষণ- ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা এক রহস্যময় সমুদ্র সৈকত। আজ ভোর থেকেই সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ছিল পর্যটকদের অভাবনীয় উপস্থিতি। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। সমুদ্রের নীল জলরাশি কিছুটা অস্পষ্ট থাকলেও সেই অপার্থিব পরিবেশ উপভোগ করতে পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাসে কোনো কমতি ছিল না। কেউ ঘোড়ায় চড়ে কুয়াশাভেজা সৈকত ঘুরছেন, কেউবা শীতের কাপড়ে মুড়িয়ে বালুচরে বসে দেখছেন দিগন্তরেখা।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক দম্পতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘শহরের যান্ত্রিকতা থেকে বাঁচতে শীতের এই সময়টাকেই আমরা বেছে নিয়েছি। কুয়াশাচ্ছন্ন সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম, যা ভোলার মতো নয়।’
পর্যটন মৌসুমের চূড়ান্ত সময় হওয়ায় কক্সবাজারের প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসে এখন উপচে পড়া ভিড়। হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির তথ্যমতে, প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। যারা আগেভাগে বুকিং না দিয়ে সরাসরি চলে আসছেন, তাদের অনেককেই থাকার জায়গা খুঁজে পেতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একই চিত্র। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ও ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কোনো টিকিট খালি নেই। সড়কপথে বাসের চাপ বাড়লেও কুয়াশার কারণে যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সমুদ্রের টানে আসা মানুষের উৎসাহে তাতে কোনো ভাটা পড়েনি।
শুধু সৈকত নয়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোও। বিশেষ করে সুগন্ধা পয়েন্টের ফিশ ফ্রাই মার্কেটগুলোতে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে পর্যটকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট বা ইংরেজি নববর্ষকে সামনে রেখে এই ভিড় ও ব্যবসা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের এই বিশাল বহর সামলাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লাইফগার্ড কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাইকিং করছেন যেন ভাটার সময় কেউ গভীর পানিতে না নামেন।
পৌষের এই হিমেল পরশ আর সমুদ্রের বিশালতা নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত এখন পর্যটন নগরী। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সূর্য উঁকি দিলেই যেন সৈকতের প্রতিটি বালুকণা হয়ে ওঠে আরও জীবন্ত।