নাম যশ ও অর্থের খেলা টেনিস
গ্ল্যামার ও ঐতিহ্যের রাজকীয় আঙিনা
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নাম, যশ, খ্যাতি আর অর্থের ঝনঝনানি- এই সবকিছুর মিশেলে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস খেলা হলো টেনিস। এই কোর্ট থেকেই উঠে এসেছেন নোভাক জোকোভিচ, রাফায়েল নাদাল কিম্বা রজার ফেদেরারের মতো কিংবদন্তিরা, যারা বিশ্বদরবারে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন।
কেবল পুরুষরাই নন, মারিয়া শারাপোভা কিম্বা এশীয় সেনসেশন লি না ও সানিয়া মির্জারাও টেনিসের আকাশ জয় করেছেন। বিশ্বদরবারে নিজেকে তুলে ধরার এই অভিজাত খেলায় আপনিও লিখতে পারেন নিজের নাম।
বারো শতকে ফ্রান্সে টেনিসের জন্ম হলেও এর আধুনিক বিকাশ ঘটে ইংল্যান্ডে। ১৮৭৭ সালে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। বর্তমানে এটি ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। খেলাটি সাধারণত সিঙ্গেলস (একক) এবং ডাবলস (দ্বৈত)- এই দুই পদ্ধতিতে খেলা হয়ে থাকে।
টেনিস মূলত পাঁচ ধরনের কোর্টে খেলা হলেও পেশাদার পর্যায়ে তিন ধরনের কোর্ট প্রধান।
ক্লে কোর্ট (মাটির কোর্ট): ফ্রেঞ্চ ওপেন এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বলের গতি কম কিন্তু স্পিন বেশি থাকে।
হার্ড কোর্ট: অস্ট্রেলিয়ান ও ইউএস ওপেন এই কোর্টে হয়। এখানে বলের বাউন্স ও গতি দুটোই বেশি।
গ্রাস কোর্ট (ঘাসের কোর্ট): উইম্বলডনের ঐতিহ্যবাহী এই কোর্টে বলের গতি থাকে অনেক বেশি।
টেনিসের পয়েন্ট গণনা পদ্ধতি বেশ স্বতন্ত্র। এখানে ১, ২, ৩ এর বদলে ১৫, ৩০ এবং ৪০- এভাবে পয়েন্ট হিসাব করা হয়। চতুর্থ পয়েন্টে গিয়ে হয় ‘গেম’। ছয়টি গেম জিতলে একটি ‘সেট’ হয় এবং সাধারণত তিন বা পাঁচ সেটের ম্যাচে খেলার নিষ্পত্তি ঘটে। পয়েন্ট সমান হলে একে ‘ডিউস’ বলা হয়।
বছরের চারটি প্রধান টুর্নামেন্টকে বলা হয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম। ১. অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: বছরের শুরুতে হার্ড কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। ২. ফ্রেঞ্চ ওপেন: মে-জুনে লাল মাটির কোর্টে হয় এই লড়াই। ৩. উইম্বলডন: জুনের শেষে ঘাসের কোর্টে আভিজাত্যের এই লড়াই শুরু হয়। ৪. ইউএস ওপেন: বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম, যা আমেরিকার হার্ড কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়।
শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, কোচ, ফিটনেস ট্রেইনার, আম্পায়ার কিংবা টেনিস জার্নালিস্ট হিসেবেও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। এমনকি বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ফ্লোরিডা বা হিউস্টন ইউনিভার্সিটিতে টেনিস ম্যানেজমেন্টের ওপর উচ্চতর ডিগ্রির সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে টেনিস চর্চা অনেকটা সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও টুর্নামেন্ট চলছে। মাত্র ৩০০ টাকা ভর্তি ফি এবং মাসিক ৩০০ টাকা ফি দিয়ে এখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব। এছাড়া রাজধানীর বড় হোটেলগুলোতেও টেনিস খেলার সুবিধা রয়েছে। তবে উন্নত প্রযুক্তির অভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশীয় টেনিস এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।