বরিশাল থেকে শুরু হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন যাত্রা
স্টেডিয়ামের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে হস্তান্তর
রাসেল হোসেন, বরিশাল
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন কাঠামোর যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর সেই নতুন যাত্রার সূচনালগ্নের প্রধান ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন আয়োজন ডি থ্রি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, নতুন তিন ফরম্যাটের টুর্নামেন্টের মূল ভেন্যু হবে বরিশাল। নতুন ‘ডমেস্টিক থ্রি’ বা ‘ডি থ্রি’ টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি পর্ব আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল স্টেডিয়াম থেকে শুরু হবে।
ঘরোয়া ক্রিকেটকে শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটের মতো নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্য অঞ্চলেও নিয়ে যেতে চান তামিম। সেই ভাবনা থেকেই বরিশালকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
বিসিবির নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামও এখন ক্রিকেট আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ জন ঠিকাদারের মাধ্যমে কীর্তনখোলার তীরের এই স্টেডিয়ামের সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
গত বৃহস্পতিবার বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম বলেন, সংস্কারকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাকি কাজ শেষ করে মাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, যখন তারকা খেলোয়াড়রা বরিশালে আসবেন, তখন খেলাপ্রেমীদের সংখ্যাও বাড়বে। এখান থেকে ক্রিকেটের উন্নয়ন ঘটবে, নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার তানভীর ইসলাম স্টেডিয়াম পরিদর্শনে এসে বলেন, ‘আমি আগেও এখানে এসেছি ইনডোরে। তখন তেমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না। নতুন ইনডোর হয়েছে, সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয়েছে। আমি খুব আগ্রহী এবং আশাবাদী এখানে ডিসেম্বরে ডি থ্রি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনসহ খেলাগুলো ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের উইকেট ইতোমধ্যে প্রস্তুত। আউটফিল্ডের কাজও প্রায় শেষ। নতুন করে মাঠে বসানো ঘাসকে পুরোপুরি বেড়ে ওঠা ও সেট হওয়ার সময় দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ইনডোর প্র্যাকটিস সুবিধার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেটি ব্যবহারও শুরু হয়েছে।
এর আগে স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের মাঠ, পিচ, গ্যালারি, ড্রেসিংরুম, মিডিয়া সুবিধা, ফ্লাডলাইট, ইনডোর নেট প্র্যাকটিসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ক্রিকেট আয়োজন থেকে দূরে থাকা বরিশালের এই মাঠে নতুন করে ক্রিকেট ফেরার খবরে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বিশেষ করে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দেশের প্রতিষ্ঠিত ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিয়মিত মাঠে দেখার সুযোগ তৈরি হলে দর্শক সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফনান আদনান বলেন, ‘বরিশালের মানুষ সবসময় ক্রিকেটপ্রেমী। কিন্তু নিজ শহরে বসে জাতীয় দলের তারকাদের খেলা দেখার সৌভাগ্য হয় নাই। এবার হয়তো ঘুচবে আমাদের দীর্ঘ দিনের অপেক্ষা।’
আরেক ক্রিকেটপ্রেমী বিএম কলেজ শিক্ষার্থী বাহাদুর খান বলেন, ‘আমরা সত্যিই আনন্দিত যে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন যাত্রা বরিশাল থেকে শুরু হবে। টুর্নামেন্ট সফল হতে বরিশালের দর্শকরা সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিবে।’
বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, ‘ডি থ্রি’ টুর্নামেন্টের টি-টোয়েন্টি পর্ব আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল স্টেডিয়াম থেকে শুরু হচ্ছে—এমন খবরে বরিশালে সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বসিত। টুর্নামেন্টটি সফল করতে আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ নিচ্ছি। স্টেডিয়ামের কাজ প্রায় শেষের দিকে। গ্যালারি, মাঠ প্রস্তুতসহ বড় কাজগুলো শেষ। এখন অভ্যন্তরীণ কিছু ছোট ছোট কাজ আছে। আশা করছি, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামের সব কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা যাবে।