বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য প্রস্তুত মেটলাইফ স্টেডিয়াম
বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথমবার মুখোমুখি মেসি-ইয়ামাল, হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচও
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৮ এএম
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বাইরে ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফুটবল সমর্থকরা। —রয়টার্স
দীর্ঘ এক মাসের নাটকীয় লড়াই শেষে আজ ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সাড়ে ৮২ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ, যেখানে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই উঠেছিল ৮ লাখ টাকায়। ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নাটকীয় লড়াইয়ের পর বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঞ্চলের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ।
বাইরে থেকে দেখলে মেটলাইফকে অন্য স্টেডিয়ামগুলোর মতোই আধুনিক মনে হতে পারে। তবে ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি শুধু মাঠ নয়, প্রায় ২১ লাখ বর্গফুটের এক বিশাল সাম্রাজ্য। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর আজকের আয়োজন দেখতে টিকিট কেটেছেন সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ফাইনালকে ঘিরে সেই দাম আকাশ ছুঁয়েছে। শনিবার ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১ দশমিক ২৫ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এরপর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য প্রায় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছে যায়।
স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের টিকিটের দাম পড়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। মাঠের কাছাকাছি আসনের টিকিট কিনতে গুনতে হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের মূল্য উঠেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমান। টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিক ও স্টাবহাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে লোয়ার বোলের কিছু আসনের মূল্য ছুঁয়েছে ৩৫ হাজার ডলার।
শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচ শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন তিনি।
তার উপস্থিতিকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আকাশ, স্থল ও স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে গড়ে তোলা হয়েছে বহুস্তরের নিরাপত্তা বলয়। মার্কিন সরকার এই ম্যাচকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, সিক্রেট সার্ভিস ও একাধিক ফেডারেল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, স্টেডিয়ামে আসা সমর্থকদের বিমানবন্দরের মতো কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ম্যাচ শুরুর পাঁচ ঘণ্টা আগেই আকাশপথে হেলিকপ্টার টহলসহ হাজার হাজার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ দেখতে এরই মধ্যে স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় করেছেন সমর্থকরা। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকেই কর্মী ও সাংবাদিকরা লাইনে দাঁড়ান। সকাল ৯টায় গেট খোলার সময় সেই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। তাদের একটি পথ দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে ছয়টি এয়ারপোর্ট স্ক্যানার ও শরীর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
নিরাপত্তা প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাননি তারকারাও। জার্মান স্ট্রিমিং সার্ভিস ‘ম্যাজেন্টা’র বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় সাড়ে ৮২ হাজার দর্শকের প্রত্যেককেই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। এটি বিশ্বকাপে মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচও বলে ধরা হচ্ছে, যে কারণে সমর্থকদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি উৎসাহ।