EN ☀️
×

Follow Us

খেলা

এমবাপে কি টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড় হতে পারেন?

মেসিকে টপকে ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা এখন ফরাসি অধিনায়ক; আজ ফাইনালে হ্যাটট্রিক বা জোড়া গোল না পেলে গোল্ডেন বুট হারাচ্ছেন লিওনেল

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

এমবাপে কি টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা প্রথম খেলোয়াড় হতে পারেন?

মিয়ামি স্টেডিয়ামে ব্রোঞ্জ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম গোলের পর উদযাপন করছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: রয়টার্স

অ অ

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে বহু কিংবদন্তির জন্ম হয়েছে। পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা মিরোস্লাভ ক্লোসার মতো তারকারা বিশ্ব মাতিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউই নিজেদের ক্যারিয়ারে একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। এমনকি ভিন্ন দুটি বিশ্বকাপেও কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেননি। প্রতি আসরেই নতুন কোনো মুখ এই ট্রফি নিজের করে নিয়েছে। এবার সেই ইতিহাস পুরোপুরি বদলে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপে।

গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ৮টি গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি ১০টি গোল নিয়ে বর্তমানে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

সোমবারের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেনের লড়াই। তবে সবার চোখ থাকবে লিওনেল মেসির দিকে। আজ মেসি যদি হ্যাটট্রিক বা জোড়া গোল করতে না পারেন, তবে এমবাপেই হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়বেন।

বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই তারকার লড়াইয়ের খতিয়ান এককথায় অবিশ্বাস্য। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এমবাপে তাঁর খেলা ৩টি বিশ্বকাপেই গোলের জোয়ার ভাসিয়েছেন। সবচেয়ে কম ম্যাচে (২২ ম্যাচ) ২২টি গোল করার কীর্তি এখন তাঁর।

কিলিয়ান এমবাপে ২০১৮ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৪ গোল করে চ্যাম্পিয়ন ও সেরা তরুণ খেলোয়াড় হন (সেবার ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট পান হ্যারি কেন)। ২০২২ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৮ গোল করে হন রানার্স-আপ ও গোল্ডেন বুট জয়ী। আর চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১০ গোল করে ফ্রান্সকে এনে দিয়েছেন চতুর্থ স্থান।

অন্যদিকে মেসি সবচেয়ে বেশি ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। খেলেছেন সর্বোচ্চ ৩৩টি ম্যাচ। ২০০৬ সালে ৩ ম্যাচে ১ গোল, ২০১০ সালে ৫ ম্যাচে ১ অ্যাসিস্ট, ২০১৪ সালে ৭১ ম্যাচে ৪ গোল (রানার্সআপ ও গোল্ডেন বল জয়ী), ২০১৮ সালে ৪ ম্যাচে ১ গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৭ গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি জেতেন গোল্ডেন বল। আর চলমান আসরের ফাইনালের আগ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে আছে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট।

অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে ফরাসি দলের অধিনায়ক

এমবাপের আজকের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, যখন তিনি ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ লাক্সেমবার্গের বিপক্ষে মাত্র ১৮ বছর ৯৫ দিন বয়সে মূল জাতীয় দলে তাঁর অভিষেক হয়। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে ১৯৫৫ সালের পর তিনিই জাতীয় দলের জার্সিতে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার।

একই বছরের ৩১ আগস্ট নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন এমবাপে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে পেলের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে গোল করা দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় বনে যান তিনি। ২০২৩ সালের মার্চে গোলরক্ষক হুগো লরিস অবসর নিলে কোচ দিদিয়ের দেশম মাত্র ২৪ বছর বয়সে এমবাপেকে দলের প্রধান অধিনায়ক ঘোষণা করেন। আর এই ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি সামনে থেকে ফরাসিদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ফাইনালে এমবাপের ছায়ার সঙ্গে মেসির লড়াই 

ফ্রান্স সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপে নিজেকে আলোচনার শীর্ষে রেখে গেছেন। মোট ২২ গোল নিয়ে তিনি এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাঁর ঠিক পেছনেই ২১ গোল নিয়ে আছেন লিওনেল মেসি।

সবাই ভেবেছিল মেসি এবার গোল্ডেন বুট জিতে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু এখন মেসিকে স্পেনের শক্ত ডিফেন্সের পাশাপাশি এমবাপের এই অতিমানবীয় রেকর্ডের ছায়ার সাথে যুদ্ধ করতে হবে। আজ ফাইনালে মেসি গোল সংখ্যা বাড়াতে না পারলে চিরতরে হারাবেন এই রেকর্ড। কারণ ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ক্যামেরুনীয় বাবা ও আলজেরিয়ান মায়ের সন্তান, বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপে এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন মহীরুহ। আজ রাতের মেগা ফাইনালই নির্ধারণ করবে—এমবাপে কি ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুবার গোল্ডেন বুট নিজের করে নেবেন, নাকি মেসি শেষ মুহূর্তে দেখাবেন নতুন কোনো জাদুকরী চমক!

আরও পড়ুন