২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফিফার অফিশিয়াল ব্রডকাস্টার পার্টনার হিসেবে গ্যালারিতে মার্কিন ইউটিউবার আই-শো-স্পিড। ছবি: রয়টার্স
গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে একটাই নাম— আইশোস্পিড। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে টেলিভিশন চ্যানেলকে টেক্কা দিয়ে ইতিহাস গড়া এই তরুণ এখন আলোচনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে— গ্যালারিতে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়ে। কিন্তু আসলে কে এই আইশোস্পিড, আর কেনই বা তাকে নিয়ে এত আলোচনা?
আইশোস্পিডের প্রকৃত নাম ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র। যুক্তরাষ্ট্রের এই ২১ বছর বয়সী তরুণ মূলত পরিচিতি পেয়েছেন তার উচ্চ-এনার্জি ও পাগলাটে স্টাইলের লাইভস্ট্রিমিং কনটেন্টের জন্য। বর্তমানে ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি, আর ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্স মিলিয়ে মোট অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি— যা তাকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী কনটেন্ট ক্রিয়েটরে পরিণত করেছে।
পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি তীব্র ভক্তি এবং ফুটবল নিয়ে তার সীমাহীন উন্মাদনার জন্য আইশোস্পিড আলাদাভাবে পরিচিত। অ্যাথলেট নোয়াহ লাইলসের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা, টম ব্র্যাডির বিপক্ষে ফ্ল্যাগ ফুটবল, কেভিন ডুরান্টের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলা কিংবা ডব্লিউডব্লিউই রেসলিংয়ে অংশগ্রহণ— এসব তাকে শুধু স্ট্রিমার নয়, একজন বৈশ্বিক পপ-কালচার আইকনে পরিণত করেছে।

ফিফার সঙ্গে চুক্তি
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকেই স্টেডিয়ামে গিয়ে লাইভস্ট্রিম করার অভ্যাস আইশোস্পিডের। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার ভূমিকা বদলে গেছে সম্পূর্ণভাবে। ফিফা, মার্কিন সম্প্রচারক ফক্স স্পোর্টস ও ইউটিউবের সঙ্গে এক মেগা চুক্তির মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম কোনো স্বতন্ত্র কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি স্টেডিয়ামে বসে ফিফার অফিশিয়াল ম্যাচ ফিড ও কপিরাইট করা লাইভ ফুটেজ নিজের স্ট্রিমে ব্যবহারের বৈধ অনুমতি পেয়েছেন।
এই চুক্তির প্রভাব বোঝা যায় সংখ্যাতেই— পর্তুগালের বিশ্বকাপ-উদ্বোধনী ম্যাচের সময় তার স্ট্রিমে ৯০ লাখেরও বেশি দর্শক জুড়ে ছিলেন, যা ফক্সের সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচারের দর্শকসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায় বলে জানা গেছে। আগামী ১২ জুলাই নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠিতব্য 'ইউটিউব ফিফা ক্রিয়েটর কাপ'- এও তিনি একটি দলের নেতৃত্ব দেবেন— যা ফিফা ও ইউটিউবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম কনটেন্ট-ক্রিয়েটর ফুটবল ইভেন্ট।
গ্যালারিতে বর্ণবাদের শিকার
তবে এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাঝেই তিনি জড়িয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে বিতর্কে। গত ৩ জুলাই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচ চলাকালীন তার লাইভস্ট্রিমেই ধরা পড়ে অপ্রীতিকর দৃশ্য— আর্জেন্টিনার এক নারী সমর্থক তাকে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, 'চিড়িয়াখানায় গিয়ে কেঁদে আসো'। এর কয়েক দিন পর, ৭ জুলাই আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচেও আরেক সমর্থক তাকে লক্ষ্য করে বানরের মতো অঙ্গভঙ্গি করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। অভিযুক্ত সমর্থক অবশ্য পরে দাবি করেন, তিনি বর্ণবাদী মন্তব্য করেননি, বরং স্পিড নিজে যেভাবে আর্জেন্টিনাকে খ্যাপাচ্ছিলেন সেটারই নকল করছিলেন তিনি।
দুটি ঘটনার পরই ফিফা কড়া বিবৃতি দিয়ে জানায়, 'ফুটবল মাঠে, বিশ্বকাপে কিংবা সমাজের কোথাও বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই।' সংস্থার শৃঙ্খলা কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে, এবং দোষী প্রমাণিত হলে জরিমানা থেকে আজীবন স্টেডিয়াম-নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এখনো তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।