ইতিহাসে প্রথম, তিন আয়োজকই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা— তিন সহ-আয়োজকই একসঙ্গে পা রাখল নকআউট পর্বে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা ঘটেনি কখনো
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলোতে একসঙ্গে তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় শত বছরের ইতিহাসে বহুবার আয়োজক দেশ শিরোপা জিতেছে, আবার বহুবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে একাধিক আয়োজক দেশ শেষ ষোলো পর্যন্ত টিকে থাকার নজির আগে কখনো দেখেনি ফুটবলবিশ্ব। ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই ইতিহাসই লিখল— যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা, তিন সহ-আয়োজক দেশই এবার একসঙ্গে জায়গা করে নিল রাউন্ড অব ১৬-তে।
তিন দেশের পারফরম্যান্সই ছিল নজরকাড়া। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেক্সিকো রাউন্ড অব ৩২-এ ইকুয়েডরকে হারায় ২-০ গোলে। অন্যদিকে কানাডা গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ১-০ গোলে। যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের গ্রুপ পেরিয়ে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে। তিন দলের এই সম্মিলিত সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ঘরের মাঠের চেনা কন্ডিশন আর গ্যালারিভর্তি নিজেদের দর্শকের সমর্থন— যা প্রতিটি ম্যাচেই বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে স্বাগতিক তিন দলকে।

এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ আয়োজক হিসেবে একসঙ্গে নকআউট পর্বে উঠেছিল, যা তখন ছিল নিজেদের মধ্যে এক বিরল কীর্তি। তবে কোনো আসরে তিনটি আয়োজক দেশেরই একসঙ্গে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। অর্থাৎ ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু আয়োজক দেশের সাফল্যের নতুন এক মাইলফলক নয়, বরং সংখ্যার হিসাবেও ছাড়িয়ে গেছে দুই দশক আগের সেই কীর্তিকে।
এই কীর্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ একই সময়ে ছিটকে গেছে ফুটবলের পরিচিত পরাশক্তিরা। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস— দুই দলই বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলোর আগেই। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় খেলা দলগুলোর মধ্যে ছয়টি দল— নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, জাপান, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া এবার আর পৌঁছাতে পারেনি এই পর্যায়ে। এমন এক আসরে, যেখানে ইউরোপ ও এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী শক্তিগুলো হোঁচট খাচ্ছে, সেখানে তিন আয়োজক দেশের সম্মিলিত উত্থান পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে উঠেছে।
তবে ইতিহাস গড়ার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষাও। শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যাদের সাম্প্রতিক ফর্ম ধারাবাহিক না হলেও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে। কানাডার সামনে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো, যারা এবারও নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে এসেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রকে লড়তে হবে গতিময় ফুটবল খেলা বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

ঘরের মাঠের সুবিধা তিন দলের পক্ষেই থাকবে, তবে প্রতিপক্ষের মান বিচারে মেক্সিকোর সুযোগ তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে লড়াইটা হবে আরও কঠিন। তিন আয়োজক দেশের মধ্যে কতজন কোয়ার্টার ফাইনালেও জায়গা করে নিতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।
শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া বাকি দলগুলো হলো— আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, মিশর, কলম্বিয়া, মরক্কো, প্যারাগুয়ে, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। ৪ জুলাই কানাডা-মরক্কো ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শেষ ষোলোর লড়াই, এরপর একে একে মাঠে গড়াবে প্যারাগুয়ে-ফ্রান্স, ব্রাজিল-নরওয়ে, আর্জেন্টিনা-মিশর, মেক্সিকো-ইংল্যান্ড, পর্তুগাল-স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম এবং সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচ।