দুই সুপার ওভার, নাটকীয়তা আর আফগানদের হৃদয় ভাঙা হার
ম্যাচ হারলেও নায়ক ছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। মূল ম্যাচে ৪২ বলে ৮৪ রানের (৭টি ছক্কা ও ৪টি চার) বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আফগানদের জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই সুপার ওভার শেষে ম্যাচ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। ছবি: আইসিসি
ক্রিকেটবিশ্ব আজ এমন এক ম্যাচের সাক্ষী হলো, যা আগে কখনো দেখেনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে রোমাঞ্চের সব সীমা ছাড়িয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের লড়াই। এক ম্যাচে টানা দুই সুপার ওভার! নাটকীয়তা আর উত্তেজনার পারদ চড়ানো এই ম্যাচে শেষ হাসি হাসল দক্ষিণ আফ্রিকাই, তবে আফগানদের লড়াই ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। কাগিসো রাবাদার করা ওভারটিতে ছিল দুটি নো-বল ও একটি ওয়াইড। শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে ফজল হক ফারুকী রান আউট হলে স্কোর টাই হয় এবং ম্যাচ গড়ায় প্রথম সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাটে আফগানিস্তান ১৬ রান তোলে। ১৭ রানের লক্ষ্যে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৬ রানই করতে সক্ষম হয়। ত্রিস্তান স্টাবস শেষ বলে ছক্কা হাঁকালে দ্বিতীয়বারের মতো টাই হয় ম্যাচ।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে ডেভিড মিলারের টানা দুই ছক্কায় দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩ রান তোলে। ২৪ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ কেশব মহারাজকে টানা তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ বলে প্রয়োজনীয় ছক্কাটি মারতে গিয়ে তিনি আউট হয়ে গেলে ৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা।
ম্যাচ হারলেও নায়ক ছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। মূল ম্যাচে ৪২ বলে ৮৪ রানের (৭টি ছক্কা ও ৪টি চার) বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আফগানদের জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কুইন্টন ডি কক (৫৯) ও রায়ান রিকেলটন (৬১) ফিফটি করেন।
‘আমার ২০ বছরের ব্রডকাস্টিং জীবনে এমন ম্যাচ আর দেখিনি।’ - কাস নাইডু, ধারাভাষ্যকার। ‘এটিই আমার দেখা সর্বকালের সেরা ম্যাচ।’- ডেল স্টেইন, সাবেক প্রোটিয়া পেসার।
এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা।