বাংলাদেশকে ছাড়াই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু আজ
ডেইলি সান রিপোর্ট, স্পোর্টস
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই ফরম্যাটের প্রতিটি বৈশ্বিক আসরে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভারত ও শ্রীলংকার যৌথ আয়োজনে আজ শুরু হতে যাওয়া দশম আসরে সেই ধারায় ছেদ পড়ছে। দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই আসর ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে ক্রিকেটের মাঠের লড়াই যেন হয়ে পড়েছে গৌণ। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ক্রিকেট রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচে পথ হারিয়েছে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট।
বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ১৬০ কোটি টাকার প্রাইজমানির বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনের পটভূমি ইতোমধ্যে সবারই জানা। ভারতের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে না খেলে নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলংকায় আয়োজনের আবেদন জানায় বিসিবি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে উল্টো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির বহুল আলোচিত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়ে আইসিসি। ক্রিকেটবিশ্বে সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬,১১২ কোটি টাকা। ফলে পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে খেলাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে আইসিসি। ম্যাচটি না হলে ক্রিকেটের ‘এল ক্লাসিকো’ ছাড়াই বিশ্বকাপের আবেদন অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশের মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ক্রিকেট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে বলেও মত সংশ্লিষ্টদের। সমালোচকদের দাবি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অতিরিক্ত প্রভাব থেকে আইসিসিকে বের করে আনতে এমন কঠোর অবস্থানের বিকল্প ছিল না।
দল হিসেবে না থাকলেও পরোক্ষভাবে বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ও গাজী সোহেল। ধারাভাষ্যকার হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের পরিচিত মুখ আতহার আলী খান।
এদিকে জাতীয় দলের না থাকা আক্ষেপ কিছুটা লাঘব করতে তিনটি দল—ধূমকেতু, দুর্বার ও দুরন্ত—নিয়ে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’ আয়োজন করেছে বিসিবি।
কলম্বোয় পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ দিয়ে আজ পর্দা উঠছে ২০ দলের এই বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী দিনে তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কলকাতায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড, আর মুম্বাইয়ে শেষ ম্যাচে খেলবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।
২০ দল চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি দল সুপার এইটে উঠবে। এরপর দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালে জায়গা পাবে। ভারত ও শ্রীলংকার আটটি ভেন্যুতে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলংকায়। তারা ফাইনালে উঠলে ৮ মার্চ কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হবে শিরোপার লড়াই। আর আগেই বিদায় নিলে ফাইনাল গড়াবে আহমেদাবাদে।
এ-গ্রুপে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। ভারতের বিপক্ষে না খেললে গ্রুপপর্ব পেরোতে বাকি তিন ম্যাচেই জিততে হবে পাকিস্তানকে। স্বাগতিক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত শিরোপার অন্যতম দাবিদার। টানা দ্বিতীয়বার এবং সর্বোচ্চ তিনবার শিরোপা জয়ের সুযোগ তাদের সামনে।
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানও রয়েছে ফেভারিটের তালিকায়। তবে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো দুই অভিজ্ঞ পেসার না থাকায় কিছুটা দুর্বল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, ফুটবলের দেশ ইতালি প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়ায় বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ না থাকায় এ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিষাদময় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে টাইগারদের অভাব এই বৈশ্বিক আসরও যে গভীরভাবে অনুভব করবে, তা বলাই যায়।