শততম টেস্টে সেঞ্চুরি, পন্টিং-রুটদের অভিজাত ক্লাবে এখন মুশফিক
এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করলেন মুশফিক।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০২:০৭ পিএম
প্রথম দিন সেঞ্চুরির অপেক্ষা নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় মুশফিকুর রহিম। ছবি: বিসিবি
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৬ বছরের ইতিহাসে শততম ম্যাচ খেলা যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই স্বপ্নের মতো। এ পর্যন্ত মাত্র ৮৪ জন ক্রিকেটার এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছেন।
তবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি দিয়ে এই উপলক্ষকে রাঙাতে পেরেছেন হাতেগোনা কয়েকজন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে সেই রাজসিক কীর্তিই গড়লেন বাংলাদেশের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাস গড়লেন মুশফিক। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন সকালে ২১৩ বল মোকাবিলা করে ১০৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের মাত্র ১১তম ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করলেন মুশফিক।
ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, শততম টেস্টে সেঞ্চুরির প্রথম কীর্তিটি গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে। ১৯৬৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষে ১৯৮৯ সালে এশিয়ার প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাকিস্তানের জাভেদ মিঁয়াদাদ ভারতের বিপক্ষে ১৪৫ রান করে এই তালিকায় নাম লেখান।
পরবর্তীতে এই অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ (১৪৯) ও ইংল্যান্ডের অ্যালেক স্টুয়ার্ট (১০৫)। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের ইনজামাম-উল-হক ভারতের বিপক্ষে খেলেন ১৮৪ রানের ইনিংস। তবে ২০০৬ সালে রিকি পন্টিং যা করেছিলেন তা ছিল অবিশ্বাস্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিডনিতে নিজের শততম টেস্টের দুই ইনিংসেই (১২০ ও অপরাজিত ১৪৩) সেঞ্চুরি হাঁকান এই অজি কিংবদন্তি।
পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ (২০১২) ও হাশিম আমলা (২০১৭) যথাক্রমে ১৩১ ও ১৩৪ রান করে এই তালিকায় স্থান করে নেন। শততম টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি অবশ্য ইংলিশ ব্যাটার জো রুটের। ভারতের বিপক্ষে তিনি ২১৮ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলেছিলেন। এছাড়া ২০২২ সালে ডেভিড ওয়ার্নার নিজের শততম টেস্টে ২০০ রান করে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তোলেন।
আজ সেই কিংবদন্তিদের কাতারে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করলেন মুশফিকুর রহিম। তার এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক অনন্য মাইলফলক।