EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

অভাব অনটনে মুমিনের করণীয়

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ এএম

অভাব অনটনে মুমিনের করণীয়
অ অ

জীবন সবসময় একরকম যায় না। মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, সচ্ছলতা ও অভাব-অনটন পালাবদল করে আসে। বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা অনেককেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। ইসলাম এই কঠিন পরিস্থিতিকে মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছে। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫)

অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে একজন মুমিন মুসলমানের হতাশ হওয়া চলবে না। বরং কিছু বিশেষ আমল ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

১. ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল)

বিপদের প্রথম আঘাতের সময়ই ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি যেমন অভাব দেন, তেমনি তিনিই অভাব দূর করেন। তাই সংকটকালীন সময়ে আল্লাহর প্রতি আস্থা না হারিয়ে তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি যথার্থ ভরসা রাখতে, তবে তিনি পাখিদের মতো তোমাদের রিজিক দিতেন; যারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় তৃপ্ত হয়ে বাসায় ফেরে।’ (তিরমিজি)

২. বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনা করা

ইসলামি আইনবিদদের মতে, অনেক সময় মানুষের গুনাহের কারণেও রিজিকে বরকত কমে যায়। ইস্তিগফার করলে আল্লাহ তাআলা শুধু গুনাহ মাফ করেন না, বরং দুনিয়াবি অভাব-অনটনও দূর করে দেন। সূরা নূহের ১০-১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে— ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে।’

৩. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করা

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চললে আল্লাহ তাআলা সংকটের এমন সমাধান বের করে দেন, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। কুরআনের ঘোষণা— ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে উত্তরণের) কোনো পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে ভাবতেও পারেনি।’ (সূরা তালাক, আয়াত: ২-৩)

৪. রিজিকে বরকতের বিশেষ দোয়া করা

রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে অভাব ও ঋণ থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর এবং সকাল-সন্ধ্যায় এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:

‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল রিজিকের মাধ্যমে আমাকে হারাম থেকে বাঁচান এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী (স্বাবলম্বী) করে দিন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)

৫. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও দান-সদকাহ

কষ্টের সময়েও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী মানুষকে সাহায্য করলে বা দান করলে নিজের রিজিকে বরকত বাড়ে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর রাখলে ও সুসম্পর্ক বজায় রাখলে মানুষের আয়ু ও রিজিক উভয়ই বৃদ্ধি পায় বলে হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে।

অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তা সাময়িক। ইসলামের শিক্ষা হলো, কষ্টের পরই স্বস্তি আসে। তাই সংকটের এই সময়ে অবৈধ উপার্জনের দিকে পা না বাড়িয়ে, হতাশ না হয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তোলা এবং সাধ্যমতো হালাল উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই একজন প্রকৃত মুমিনের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন