জিনায় জড়ালে বিবাহিত ও অবিবাহিতের শাস্তি কী?
ডেইলি সান রিপোর্ট, ধর্ম ও জীবন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
জিনা বা ব্যভিচার ইসলামে গুরুতর গুনাহগুলোর একটি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি জিনায় জড়ালে ইসলামী শরিয়তে তাদের শাস্তির বিধান কী, তা জানা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা বনী-ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না।’ (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত: ১২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি হাদিসে এর দুনিয়া ও আখেরাতের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। (বায়হাকি)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে, তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়। এরপর সে যখন তওবা করে, তখন তার ঈমান তার কাছে ফিরে আসে। (আবু দাউদ)
বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তির শাস্তি কী?
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, জিনার অপরাধ প্রমাণিত হলে বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থার বিষয়টি শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত: ২)
ইসলামী ফিকহের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবিবাহিত ব্যক্তির জিনার শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত। আর বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রজমের বিধান হাদিসভিত্তিক ফিকহে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়াই যথেষ্ট নয়। শরিয়ত অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা এবং অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করতে হয়। এ বিষয়ে ফিকহি মতামত ও আইনি প্রয়োগের বিস্তারিত বিষয়ও রয়েছে।
শাস্তি কার্যকরের অধিকার কার?
জিনার মতো অপরাধে শরিয়ত নির্ধারিত শাস্তি কার্যকর করার অধিকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষের নেই। এটি বৈধ বিচারিক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। অভিযোগ বা সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া কিংবা নিজের উদ্যোগে কোনো শাস্তি কার্যকর করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তাই জিনার মতো গুরুতর গুনাহ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। ইসলামে তওবার সুযোগ রয়েছে। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং পাপ থেকে ফিরে আসা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।