সংকটে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাইতে বলেছে ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সবাই জীবনমান উন্নত করতে চায়, কষ্ট ও দারিদ্র্য কেউ চায় না। তবু ক্ষুধা, অভাব ও আর্থিক টানাপোড়েনে পড়ে অনেকে হতাশ হয়ে আল্লাহ থেকে দূরে সরে যান। ইসলাম মুমিনের বিশ্বাস, চরিত্র, সংসার ও সমাজজীবন যেন সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। এমন সাতটি নির্দেশনা তুলে ধরা হলো।
১. বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা
অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া বা ইস্তিগফার করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এর সুফল বর্ণনা করে বলেছেন:
‘অতএব আমি বলেছি, তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন...’ (সূরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)
২. তাকওয়া অর্জন বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করা
যেকোনো সংকটে আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে চলা জীবিকা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
‘...আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সংকট থেকে উত্তরণের) কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারেনি।’ (সূরা তালাক, আয়াত: ২-৩)
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখলে মহান আল্লাহ মানুষের রিযিক ও হায়াত বাড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘যে ব্যক্তি চায় যে তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৬)
৪. নিয়মিত সদকা বা দান-সদকা করা
সাধারণ দৃষ্টিতে দান করলে সম্পদ কমে মনে হলেও, ইসলামের অমোঘ নিয়ম হলো সদকা করলে সম্পদ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কসম খেয়ে বলেছেন, ‘সদকা বা দানে কখনো সম্পদ কমে না।’ (জামে তিরমিজি)। আল্লাহ তাআলা অভাবের সময়ও সামর্থ্য অনুযায়ী দান করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা বরকতের দুয়ার খুলে দেয়।
৫. আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করা
অনটন বা সংকটের মধ্যেও হতাশ না হয়ে আল্লাহর দেওয়া বিদ্যমান নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন:
‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত ও রিযিক) বাড়িয়ে দেব...’ (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)
৬. হালাল উপার্জন ও হারাম বর্জন করা
ব্যবসায়িক মন্দা বা আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকেই সুদী ঋণ, ঘুষ বা অসদুপায় অবলম্বন করেন, যা সম্পদ থেকে বরকত পুরোপুরি কেড়ে নেয়। ইসলামে অল্প হলেও হালাল উপার্জনের ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হারাম উপার্জনে সাময়িক প্রাচুর্য এলেও তার শেষ পরিণতি অতিশয় সংকীর্ণতা।
৭. ঋণ মুক্তির জন্য নির্দিষ্ট দোয়া করা
আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। অভাবের সময় এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা উচিত:
‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার হালাল রিযিক দিয়ে আমাকে হারাম থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে স্বাবলম্বী করে দিন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)
ইসলাম মানুষকে অলস বসে না থেকে কষ্টের সময়েও ধৈর্য ধারণ ও সততার সাথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা দেয়। উপরোক্ত আমলগুলোর পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেন।