EN ☀️
×

Follow Us

ধর্ম

ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে কি?

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে কি?
অ অ

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় উৎসব। এই দিনের কোরবানি মূলত হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর মহান ত্যাগের স্মারক এবং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে আর্থিক সংকটে থাকা অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে কি ঋণ নিয়ে কোরবানি করা যাবে? এই কোরবানি কি আদৌ বৈধ হবে, নাকি নিজের সামর্থ্য থাকলেই কেবল তা করা উচিত?

কোরবানির বিধান ও সামর্থ্য

ইসলামী শরিয়তে কোরবানি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, বরং শুধু তাঁদের জন্যই প্রযোজ্য যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী—স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন ও সাবালক কোনো মুসলিম যদি জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের মধ্যে ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

এখানে নিসাব বলতে সাড়ে সাত ভরি সোনা, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর যেকোনো একটির সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যকে বোঝায়। (সূত্র: আলমুহিতুল বুরহানি ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫)

এর অর্থ হলো, সামর্থ্য না থাকলে কোরবানি করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)

ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে কি?

আল–আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ফিকহের অধ্যাপক ড. আবদুল ফাত্তাহ ইদ্রিসের মতে, কোরবানি শুধু আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানদের জন্য। যাঁদের সামর্থ্য নেই তাঁদের কোরবানি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই কোরবানির জন্য ঋণ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া নিষিদ্ধ না হলেও এটি করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং এটি উৎসাহিতও করা হয় না। কারণ, ইসলাম মানুষকে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপে ফেলতে নিরুৎসাহিত করে।

যদি কেউ ঋণ নিয়ে কোরবানি দেন এবং তা শরিয়াহ অনুযায়ী সঠিকভাবে সম্পন্ন করেন (যেমন নির্দিষ্ট সময়ে, শর্ত সাপেক্ষে পশু জবাই করা), তবে তা বৈধ হবে। তবে এটি করার আগে নিজের আর্থিক অবস্থা ও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য বিবেচনা করা জরুরি। ঋণের কারণে যদি ভবিষ্যতে আর্থিক–সংকট বা মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়, তবে তা ইসলামের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আরও পড়ুন