অপবিত্র অবস্থায় সেহরি খাওয়া যাবে কিনা?
ডেইলি সান রিপোর্ট, ধর্ম ও জীবন
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রমজান মাসে শেষ রাতে সেহরি খাওয়া অত্যন্ত বরকতময় একটি আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) সেহরি খাওয়ার বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তবে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কারণে যেমন-ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মিলনের পর সময়ের স্বল্পতায় গোসল করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই সংশয় জাগে যে, অপবিত্র অবস্থায় সেহরি খাওয়া যাবে কি না কিংবা এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে কিনা।
ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহশাস্ত্রের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, গোসল ফরজ হওয়া বা অপবিত্র অবস্থায় সেহরি খেতে কোনো বাধা নেই। নাপাক অবস্থায় সেহরি খেলেও রোজা সহিহ বা শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে পবিত্রতা অর্জনের সুযোগ ও পর্যাপ্ত সময় থাকলে গোসল সেরে সেহরি খাওয়াই উত্তম।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেউ যদি গোসলের আগে সেহরি খেয়ে নেন, তবে তাকে অবশ্যই ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই গোসল সম্পন্ন করে জামাতে বা যথাসময়ে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। গোসলের বাহানায় ফজরের নামাজ কাজা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ, রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য সেহরির সময় পবিত্র হওয়া শর্ত না হলেও, নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, সেহরি খাওয়া সুন্নত। পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হবে। হাদিস শরিফে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন-
تسحروا، فإن في السحور بركة
‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম ১/৩৫০)
অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, সেহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিত্যাগ করো না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি কর। কারণ যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ ৩/১২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৯০১০, ইবনে হিববান ৩৪৭৬)।