ছবি: সংগৃহীত
শাবান মাসের পনেরোতম রাত মুসলিম উম্মাহর কাছে পরিচিত শবে বরাত নামে। এই রাতকে ক্ষমা, রহমত ও মুক্তির রাত বলা হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, এ রাতে আল্লাহ সুবহানুওয়া তাআলা অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন (ইবনে হিব্বান)। অন্য হাদিসে এসেছে, এ রাতে আল্লাহ বান্দাদের উদ্দেশে ক্ষমা, রিজিক ও রোগমুক্তির আহ্বান জানান (ইবনে মাজাহ)।
এই ফজিলতপূর্ণ রাতে কিছু আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যেতে পারে।
তওবা ও ইস্তিগফার
শবে বরাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো খাঁটি মনে তওবা করা। সারা বছরে জেনে না জেনে যে-সব ভুল ও গুনাহ হয়ে যায়, সেগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় নিয়ত করা এই রাতের মূল শিক্ষা।
নফল নামাজ
এ রাতে নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। শবে বরাত উপলক্ষে নির্দিষ্ট কোনো নামাজ বা নির্দিষ্ট রাকাতের বাধ্যবাধকতা নেই। দুই রাকাত করে যতটা সম্ভব নামাজ পড়া যেতে পারে। নামাজে কুরআন তিলাওয়াত, রুকু-সেজদায় মন খুলে দোয়া করা এবং একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত।
কুরআন তিলাওয়াত
কুরআন তিলাওয়াতও এই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কুরআন অন্তরকে প্রশান্ত করে এবং ইমানকে দৃঢ় করে। বেশি না পারলেও অন্তত কিছু আয়াত মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত করা এবং অর্থ বোঝার চেষ্টা করা উত্তম।
দোয়া
শবে বরাত দোয়ার জন্য বিশেষ সময়। নিজের জন্য, পরিবার পরিজনের জন্য, মৃত স্বজনদের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া করা যেতে পারে। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, হালাল রিজিক, ইমানের হেফাজত এবং সুন্দর পরিণতির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এই রাতের অন্যতম আমল।
মৃতদের জন্য দোয়া
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করেছেন। তাই কবর জিয়ারত করা সম্ভব না হলেও ঘরে বসে পিতা-মাতা ও অন্যান্য মৃত আত্মীয়দের রুহের মাগফেরাত কামনা করা যেতে পারে।
নফল রোজা
শবে বরাতের পরদিন নফল রোজা রাখা ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন এবং প্রতি আরবি মাসের মধ্যবর্তী দিনে রোজা রাখার আমলও করতেন। সেই সুন্নাহ অনুসরণে এই রোজা রাখা যেতে পারে।