রমজানে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য দুঃসংবাদ
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ পিএম
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে যারা ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য উদ্বেগের খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে প্যাকেজের চড়া দাম। ট্যুর অপারেটররা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকরা যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বুকিং নিশ্চিত না করেন, তবে গুনতে হতে পারে দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা।
বিশেষ করে পরিবহন ও হোটেল ভাড়ার ঊর্ধ্বগতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় লাখ লাখ মুসল্লি আসতে চাওয়ার কারণে এমনটি হয় বলে জানিয়েছে দুবাইয়ের সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস।
ওমরাহ অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ প্রায় এক হাজার ২০০ দিরহাম হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই ব্যয় দুই হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় বুকিং পিছিয়ে দেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় উল্টো বেশি দাম গুনতে হয়।
আকাশপথে ওমরাহর ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম থেকে। তবে রমজান শুরু হলে এই প্যাকেজের দাম ৫ হাজার ২০০ দিরহাম ছাড়িয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হোটেল ভাড়াই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। হারামের হাঁটা দূরত্বে থাকা হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এ ছাড়া হজের প্রস্তুতির কারণে ওমরাহ ভিসার সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ মার্চের পর ওমরাহ ভিসা আবেদন বন্ধ হবে এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই খরচ ও সময়-দুটো বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগে পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ এড়াতে কিছু পরামর্শ
১. দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করা: শেষ মুহূর্তের সস্তা প্যাকেজের আশায় না থেকে এখনই ফ্লাইট ও হোটেল নিশ্চিত করা বুদ্ধিমানের কাজ।
২. বিকল্প এয়ারলাইন্স ও ট্রানজিট: সরাসরি ফ্লাইটের বদলে কানেক্টিং বা ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যবহার করলে বিমান ভাড়ায় বড় সাশ্রয় সম্ভব।
৩. গ্রুপে ভ্রমণ: একক বা পরিবারের চেয়ে গ্রুপ প্যাকেজে গেলে থাকার খরচ অনেক কমে যায়।
৪. দূরবর্তী আবাসন: হারামের একেবারে কাছে হোটেল না নিয়ে কিছুটা হাঁটা দূরত্বের হোটেল নিলে বাজেটের মধ্যে ওমরাহ সম্পন্ন করা সহজ হবে।
৫. কাগজপত্র যাচাই: ১৮ এপ্রিলের পর ওমরাহ ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে না, তাই ফিরতি টিকিট এবং সময়সূচি নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।